‘সেবাশ্রয়’ শিবির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নয়
‘সেবাশ্রয়’ সংক্রান্ত তিন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী স্বস্তি
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের জেরে দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআর মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, এই তিন মামলায় ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের অর্থ, নির্দিষ্ট ওই তিনটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে এই রক্ষাকবচকে তদন্ত বন্ধের নির্দেশ হিসেবে দেখা যাবে না। মামলাগুলির তদন্ত প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চালিয়ে যেতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা।
কী নিয়ে শুরু বিতর্ক?
অভিযোগের সূত্র ‘সেবাশ্রয়’ নামে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী হিসেবে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের নাম সামনে আসে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দ্বারস্থ হন।
তাঁর আবেদনে একাধিক এফআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে আইনগত সুরক্ষা চাওয়া হয়। এর আগে অন্য কয়েকটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় আদালত পৃথকভাবে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?
সাম্প্রতিক শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত ওই তিন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও coercive বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করেছে। বিচারাধীন অন্য কয়েকটি ফৌজদারি মামলা নিয়ে পৃথক আবেদন ও আদালতের প্রক্রিয়া চলায় সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির শুনানি নির্দিষ্ট দিনে ফের হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বর্তমান নির্দেশকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
- ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়।
- এই মামলাগুলির মধ্যে তিনটি এফআইআর নিয়ে আদালতে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কলকাতা হাইকোর্ট ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে।
- নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওই তিন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
- আদালতের রক্ষাকবচের ফলে পুলিশি তদন্ত বন্ধ হবে না।
- মামলার পরবর্তী শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে চলবে।
তদন্তে বাধা নয়, স্পষ্ট আদালতের অবস্থান
অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে মামলার তদন্ত স্থগিত হয়ে গেল বা অভিযোগগুলি নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের সুরক্ষা মূলত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পুলিশি পদক্ষেপ সীমিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগ যাচাই এবং আইন অনুযায়ী তদন্তের অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
আগের কয়েকটি মামলাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে। বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলা এবং অন্যান্য পৃথক অভিযোগের ক্ষেত্রেও আদালত বিভিন্ন সময়ে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা ও তদন্তে সহযোগিতার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রতিটি মামলা আলাদা অভিযোগ ও আইনি প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে বিচারাধীন রয়েছে।
এখন কী হবে?
১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল থাকলেও ‘সেবাশ্রয়’ সংক্রান্ত অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে আদালত মামলার নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই পর্যায়ে আদালতের নির্দেশকে সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্তভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে নয়।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। একদিকে অভিযোগের তদন্ত এগোবে, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে আইনি শুনানিও চলবে। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের পর মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।