গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইন্ডিগোর বিমানে টেল-স্ট্রাইক, গ্রাউন্ডেড এয়ারবাস

গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইন্ডিগোর বিমানে টেল-স্ট্রাইক, গ্রাউন্ডেড এয়ারবাস

গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর বিমানে টেল-স্ট্রাইক

গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমানের পেছনের অংশ রানওয়ের সঙ্গে ঘষা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিমান চলাচল মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিমান চলাচলের পরিভাষায় এই ধরনের ঘটনাকে টেল-স্ট্রাইক (Tail-strike) বলা হয়। ঘটনাটি ঘটে বিমানটি অবতরণের সময়।

জানা গিয়েছে, ইন্ডিগোর এয়ারবাস এ৩২১ বিমানটি গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে নামার সময় তার লেজের অংশ রানওয়ের মাটিতে স্পর্শ করে। এমন ঘটনায় বিমানের বাইরের অংশে দৃশ্যমান ক্ষতি না থাকলেও কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই কারণেই বিমানটিকে পরবর্তী উড়ানের আগে বিস্তারিত পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে।

যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ: ঘটনার সময় বিমানে থাকা যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। অবতরণের পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিমানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা না করা পর্যন্ত সেটিকে পরিষেবায় ফেরানো হয়নি।

  • অবতরণের সময় বিমানের লেজের অংশ রানওয়ের সঙ্গে ঘষা খায়।
  • বিমানটি একটি এয়ারবাস এ৩২১ মডেলের যাত্রীবাহী বিমান।
  • ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে বিমানটি গোরক্ষপুর বিমানবন্দরেই গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে।
  • বিমানের কাঠামোগত অবস্থার বিস্তারিত পরীক্ষা করা হচ্ছে।
  • ঘটনাটি নিয়ে ডিজিসিএ-র তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ টেল-স্ট্রাইক?

বিমান অবতরণের সময় লেজের অংশ রানওয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেলে বিমানের কাঠামোর নির্দিষ্ট অংশে চাপ পড়তে পারে। বাইরে থেকে ক্ষতি সামান্য মনে হলেও ভিতরের কাঠামোয় কোনও সমস্যা হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়। তাই এই ধরনের ঘটনার পর বিমানকে সরাসরি নিয়মিত পরিষেবায় ফিরিয়ে না দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিদর্শন করা হয়।

এয়ারবাস এ৩২১-এর মতো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের ক্ষেত্রে যাত্রী নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফলে টেল-স্ট্রাইকের পর বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। বিমানের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তদন্তে নজর ডিজিসিএ-র

ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখতে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)-এর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবতরণের সময় বিমানের অবস্থান, পাইলটিং পরিস্থিতি, রানওয়ের অবস্থা এবং বিমানের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এখন মূল নজর বিমানের বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরিদর্শন এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে। বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই সেটিকে ফের বাণিজ্যিক পরিষেবায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।