নেশার ওষুধের উৎস খুঁজতে মেহতা বিল্ডিংয়ে হানা, ড্রাগ কন্ট্রোল ও ইবির অভিযান
মেহতা বিল্ডিংয়ে ড্রাগ কন্ট্রোল ও ইবির অভিযান
নেশার ওষুধের উৎস এবং সরবরাহের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে কলকাতার মেহতা বিল্ডিংয়ে অভিযান চালাল ড্রাগ কন্ট্রোল দফতর এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বা ইবি। নেশার কাজে ব্যবহার হতে পারে এমন ওষুধের বেআইনি বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকান ও ব্যবসায়িক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, বাজারে থাকা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ কীভাবে নেশার কাজে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছচ্ছে, তার উৎস চিহ্নিত করা। কোনও ওষুধ বৈধভাবে বিক্রি হলেও তার অপব্যবহার হচ্ছে কি না, প্রেসক্রিপশন ছাড়া তা বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও অনিয়ম রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওষুধের উৎস নিয়ে তদন্ত
তদন্তের ক্ষেত্রে ওষুধের উৎস এবং সরবরাহের পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দোকান থেকে সন্দেহজনক ওষুধ বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে সেই ওষুধ কোথা থেকে এসেছে, কোন সংস্থা বা ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরবরাহ হয়েছে এবং পরে কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। মেহতা বিল্ডিংয়ের অভিযানের ক্ষেত্রেও এই সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তকারীরা ওষুধের স্টক, বিক্রির হিসাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। কোনও ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রেসক্রিপশন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ওষুধের অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলির বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
বেআইনি বিক্রির অভিযোগের সূত্র
নেশার কাজে ব্যবহৃত ওষুধের বেআইনি বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ পরে অপব্যবহারের মাধ্যমে নেশার উপকরণে পরিণত হয়। এই ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে ওষুধের দোকান এবং সরবরাহকারীদের নিয়ম মেনে ব্যবসা করার উপর নজরদারি করা হয়।
মেহতা বিল্ডিংয়ে অভিযানের সময় কোনও নির্দিষ্ট ওষুধের মজুত বা বিক্রিতে অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হল সন্দেহজনক ওষুধের গতিপথ এবং তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
ড্রাগ কন্ট্রোলের নজরে ওষুধ বিক্রির নিয়ম
ওষুধের বৈধ বিক্রি নিশ্চিত করতে ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় ওষুধের দোকান পরিদর্শন করে। নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রেসক্রিপশন সংরক্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দোকানে নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই অভিযানে দোকানের লাইসেন্স, ওষুধের মজুত সংক্রান্ত তথ্য এবং বিক্রির রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীরা যদি কোনও অসঙ্গতি খুঁজে পান, তাহলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে ওষুধের সরবরাহকারী সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইবির তদন্তে উঠে আসতে পারে নতুন তথ্য
অভিযানে ইবির যুক্ত থাকার কারণে ওষুধের বেআইনি সরবরাহের আর্থিক দিকও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়ম ভেঙে ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকলে সেই লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই অভিযানের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে ওষুধের উৎস থেকে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে বেআইনি সরবরাহের কোনও চক্র থাকলে তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।
নেশার ওষুধের অপব্যবহার রুখতে নজরদারি
নেশার কাজে ওষুধের অপব্যবহার রুখতে শুধু অভিযান নয়, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ যাতে অবৈধভাবে বিক্রি না হয় এবং নির্দিষ্ট ওষুধের অপব্যবহার যাতে না বাড়ে, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। মেহতা বিল্ডিংয়ের অভিযান সেই নজরদারি ব্যবস্থারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন তদন্তকারীদের নজর ওষুধের প্রকৃত উৎস, সরবরাহের পথ এবং বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দিকে। অভিযানে পাওয়া তথ্য ও নথি বিশ্লেষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেহতা বিল্ডিংয়ের এই অভিযান থেকে নেশার ওষুধের বেআইনি সরবরাহ সংক্রান্ত আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।