গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার উপরে, মালদা-মুর্শিদাবাদে ফের ভাঙনের আশঙ্কা

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার উপরে, মালদা-মুর্শিদাবাদে ফের ভাঙনের আশঙ্কা

বিপদসীমার উপরে গঙ্গার জল

গঙ্গার জলস্তর ফের বিপদসীমার উপরে ওঠায় পশ্চিমবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় বন্যা ও নদী ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার উপরে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফরাক্কা ব্যারেজের সব ১০৯টি গেট খুলে জল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বরের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরাক্কা ব্যারেজের ডাউনস্ট্রিমে গঙ্গার জলস্তর প্রায় ২৩.৭৫ মিটারে পৌঁছেছে। সেখানে বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার। অর্থাৎ জলস্তর নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১.৫ মিটার বেশি। ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপস্ট্রিম থেকে ডাউনস্ট্রিমে বিপুল পরিমাণ জল নামছে এবং প্রায় ১৬ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে

জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঘটনাও সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদের লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার সীমান্তবর্তী তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই এলাকাগুলিতে গত কয়েক বছর ধরেই গঙ্গার ভাঙনে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জল বাড়ায় পুরনো আতঙ্ক ফের দেখা দিয়েছে।

ফরাক্কার আশপাশের নদী তীরবর্তী এলাকাতেও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জলস্তর আরও বাড়লে নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় জলমগ্নতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের নজর এখন গঙ্গার জলস্তর এবং নদী তীরের পরিস্থিতির দিকে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার উপরে রয়েছে। ব্যারেজের ১০৯টি গেটই খোলা হয়েছে এবং ডাউনস্ট্রিমে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে। একই সময়ে মুর্শিদাবাদের কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙনের খবর সামনে এসেছে।

  • ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর প্রায় ২৩.৭৫ মিটারে পৌঁছেছে।
  • ফরাক্কার বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার।
  • ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খোলা হয়েছে।
  • প্রায় ১৬ লক্ষ কিউসেক জল ডাউনস্ট্রিমে ছাড়া হয়েছে।
  • তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায় নতুন করে ভাঙনের খবর পাওয়া গিয়েছে।
  • মালদা ও মুর্শিদাবাদের নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

মালদাতেও বন্যা পরিস্থিতির উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব মালদার মানিকচক ও ভুতনি এলাকার উপরও পড়েছে। এর আগে মানিকচকের উত্তরচণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢোকার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কেশরপুরের একটি বাঁধ ভেঙে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। গঙ্গার জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ভুতনি এলাকাতেও গঙ্গার জল বিপদসীমার উপরে উঠে যাওয়ায় একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। নদীর জলস্তর ও বাঁধের পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নজর রাখছে। নদী ভাঙনের প্রবণতা থাকা এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগামী দিনে পরিস্থিতির দিকে নজর

ফরাক্কা থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হলেও আগামী দিনগুলিতে নদীর জলস্তর কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গার জলস্তর কমতে শুরু করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে জলস্তর স্থায়ীভাবে বেশি থাকলে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বজায় থাকবে।

প্রশাসনের তরফে নদী তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জলস্তর বৃদ্ধি, ভাঙন এবং প্লাবনের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে। গঙ্গার বর্তমান পরিস্থিতিতে মালদা ও মুর্শিদাবাদের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে আগামী কয়েক দিন বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।