বন্যার জলে ভাসছে স্কুল, মালদহে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ

বন্যার জলে ভাসছে স্কুল, মালদহে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ

বন্যায় জলমগ্ন স্কুল, পড়াশোনা চালু রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগ

বন্যার জেরে মালদহের একাধিক স্কুল জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে। কোথাও স্কুল ভবনে জল ঢুকেছে, আবার কোথাও বন্যাকবলিত পড়ুয়ারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনায় দীর্ঘস্থায়ী ছেদ যাতে না পড়ে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে সামনে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি স্বাভাবিক রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মালদহে এখনও পর্যন্ত ৮২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুলগুলিতে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হলেও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগ বজায় রাখতে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই অনলাইন পাঠদান শুরু হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস

মালদহের বন্যাকবলিত পাঁচটি বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তার আগে বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়াদের প্রস্তুতিতে যাতে বড় ধরনের সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় শিক্ষকরা দূরে থাকা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারবেন। স্কুলে গিয়ে ক্লাস করা সম্ভব না হলেও অনলাইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে বন্যার পরিস্থিতির মধ্যেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মালদহে বন্যার কারণে ৮২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বন্যাকবলিত স্কুলগুলির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস শুরু করা হয়েছে, যাতে আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দীর্ঘ বিরতি না আসে।

  • বন্যায় মালদহের ৮২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির মধ্যে পাঁচটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
  • বন্যাকবলিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে।
  • উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা।
  • মথুরাপুর মডেল স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পড়ুয়াদেরও শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন।
  • নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির ক্লাসও ধীরে ধীরে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রেও পড়াশোনার ব্যবস্থা

বন্যার কারণে শুধু স্কুল বন্ধ হয়নি, অনেক পড়ুয়ার পরিবারও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হয়েছে। মালদহের মথুরাপুর মডেল স্কুলে থাকা বন্যাদুর্গত পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরাসরি পাঠদানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর ফলে ঘরবাড়ি ও স্বাভাবিক স্কুলের পরিবেশ থেকে দূরে থাকলেও পড়ুয়ারা পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল দুর্যোগের কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে না দেওয়া। বন্যা পরিস্থিতিতে স্কুল ভবন ব্যবহার করা সম্ভব না হলে বিকল্প মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পড়ুয়াদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার আগে পড়ুয়াদের প্রস্তুতিতে নজর

বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার অপেক্ষা না করে পড়ুয়াদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব বেশি হওয়ায় অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বন্যার কারণে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হলেও প্রশাসনের এই উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জল কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুলগুলিতে নিয়মিত পঠনপাঠনও ফের চালু করা হবে। আপাতত অনলাইন ক্লাস এবং আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠদানের মাধ্যমে মালদহের বন্যাকবলিত পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবন যতটা সম্ভব সচল রাখার চেষ্টা চলছে।