তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের দাবি, ফয়সালায় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের বিরোধ এবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি জানিয়েছে। সেই দাবির ভিত্তিতে দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
দুই শিবিরকে আলাদা সময়ে ডেকেছে কমিশন
নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই দিল্লিতে আলোচনার জন্য ডেকেছে। কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা হবে। দুই পক্ষকেই নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান, দলীয় কর্তৃত্ব এবং প্রতীকের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে।
এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হলে উপনির্বাচনের প্রস্তুতিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতীকের মালিকানা নিয়ে মূল প্রশ্ন
বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক। দুই শিবিরই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে দাবি করছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির দলটির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থনের ভিত্তিতে দাবি জানাচ্ছে।
কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের তরফে বিভিন্ন নথি ও বক্তব্য জমা পড়েছে। দলের সাংগঠনিক নির্বাচন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং নেতৃত্বের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে শুধু প্রতীকের মালিকানা নয়, দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটিও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
উপনির্বাচনের আগে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, নির্বাচনে কোনও প্রার্থী কোন প্রতীক ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে প্রার্থী নির্বাচন এবং প্রচারের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। দুই শিবিরই ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একই দলের দুই শিবির আলাদা দাবি নিয়ে মাঠে নামলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল
তবে বৈঠকের পরই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুই পক্ষের বক্তব্য, নথি এবং সাংগঠনিক দাবিগুলি খতিয়ে দেখার পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে আজকের বৈঠককে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দিনে কোন শিবির তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করার অধিকার পাবে, সেই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে দুই শিবিরের রাজনৈতিক কৌশলও কমিশনের অবস্থানের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের বৈঠক এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।