বিজেপির রাজ্য কমিটিতে ২৭০ সদস্য, সংগঠনে নতুন মুখ আনার প্রস্তুতি

বিজেপির রাজ্য কমিটিতে ২৭০ সদস্য, সংগঠনে নতুন মুখ আনার প্রস্তুতি

বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বুধবার দলের পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংশোধিত তালিকায় মোট ২৭০ জন সদস্যের নাম রয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই এই নতুন কমিটি গঠনকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথমে ২৬৩ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই তালিকায় সংশোধন করা হয়। নতুন তালিকায় সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২৭০ হয়েছে। সংশোধিত তালিকায় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহার মতো অভিজ্ঞ নেতারাও জায়গা পেয়েছেন। পাশাপাশি শিশির বাজোরিয়া এবং রাজ্য শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত হয়েছে।

অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুন মুখে জোর

নতুন রাজ্য কমিটিতে একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সংগঠনে নতুন প্রজন্ম ও নতুন মুখকে সামনে আনার প্রস্তুতিও রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব আরও বাড়ায় এই নতুন কমিটির গুরুত্বও বেড়েছে। আগামী দিনে জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই কাঠামো ব্যবহার করা হবে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

নতুন কমিটিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ফলে শুধু কলকাতা বা কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নেতাদের উপর নির্ভর না করে রাজ্যজুড়ে সংগঠনকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ২৭০ সদস্যের এই কমিটিতে ৪১ জন বিধায়কও জায়গা পেয়েছেন।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে প্রস্তুতি

নতুন কমিটি ঘোষণার সময়টিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে রাজ্য কমিটি গঠন করে দলের সংগঠনকে নির্বাচনী কাজে আরও সক্রিয় করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের উপর দলের বিশেষ নজর রয়েছে।

নতুন কমিটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামও রয়েছে। নন্দীগ্রাম যে তমলুক সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত, সেই কারণে ওই এলাকার সংগঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বও নতুন করে সাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা স্তরেও আসতে পারে পরিবর্তন

রাজ্য কমিটি ঘোষণার পর এবার জেলা স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোথায় নতুন নেতৃত্ব আনা হবে, কোথায় অভিজ্ঞদের দায়িত্বে রাখা হবে এবং কোন এলাকায় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা প্রয়োজন—এই বিষয়গুলি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা রয়েছে। তাঁর সফরে নতুন রাজ্য কমিটির সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক হতে পারে।

আগামী দিনে কলকাতা পুরভোটও বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। সেই কারণে রাজ্য কমিটির পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনসংযোগ, যুবদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বুথভিত্তিক সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনাও দলের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় কী লক্ষ্য বিজেপির

রাজ্য কমিটির নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিজেপি অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে। একদিকে পুরনো নেতৃত্বের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে, অন্যদিকে নতুন মুখকে দায়িত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলের সামনে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সংগঠন পরিচালনারও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২৭০ সদস্যের নতুন রাজ্য কমিটি সেই সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হয়, তা আগামী কয়েক মাসে বোঝা যাবে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন এবং পরবর্তী কলকাতা পুরভোটের প্রস্তুতিতে এই নতুন কমিটির কাজের উপরই এখন নজর থাকবে।