চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, বায়োডেটা পাঠাতে বিজেপি বিধায়কদের কাছে ফোন
চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিজেপি বিধায়কদের ফোন
চাকরির সুযোগ দেওয়ার নাম করে পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বিজেপি বিধায়কের কাছে ফোন যাওয়ার ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিনিয়র ম্যানেজার বা আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিধায়কদের এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের বায়োডেটা পাঠাতে বলছিলেন। উপযুক্ত প্রার্থীদের মোটা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
শুধু ফোন নয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বিধায়ক বিষয়টি সন্দেহজনক বুঝতে পেরে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
চার জন চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা চাওয়া হয়েছিল
অভিযোগ অনুযায়ী, বিধায়কদের বলা হয়েছিল তাঁদের বিধানসভা এলাকা থেকে কয়েক জন স্নাতক বেকার যুবক-যুবতীর বায়োডেটা পাঠাতে। চাকরির শুরুতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বেতন এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই প্রস্তাবকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিকের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদারের কাছেও একই ধরনের ফোন যায়। প্রথম ফোনে গুরুত্ব না দিলেও পরে ফের একই প্রস্তাব আসায় তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে ফোন নম্বরও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ওই ফোন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এলাকা থেকে আসার তথ্য মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
কয়েক জন বিধায়ক বায়োডেটা পাঠিয়েছিলেন
ঘটনার আরও উদ্বেগজনক দিক হল, কয়েক জন বিধায়ক প্রতারকদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাকরিপ্রার্থীদের বায়োডেটা পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ওই বায়োডেটায় থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ এবং ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফার কাছেও একই ধরনের ফোন গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের তরফেও বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। কয়েক জন বিধায়ক সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের জোনাল অফিসেও অভিযোগ করেছেন।
বিধায়কদের নাম ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির অভিযোগ
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রতারকদের পরিকল্পনার একটি অংশ হতে পারে বিধায়কদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছনো। কোনও বিধায়কের সুপারিশ বা পরিচিতির মাধ্যমে বায়োডেটা পাঠানো হলে চাকরির প্রস্তাবটি সাধারণ মানুষের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে। পরে ওই চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা বা আরও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি বা নামী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে রেজিস্ট্রেশন ফি, নথি যাচাইয়ের টাকা বা অন্য কোনও খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করা হতে পারে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কত জন চাকরিপ্রার্থী প্রতারিত হয়েছেন বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
পুলিশের তদন্ত শুরু
বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফোন নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ এবং প্রতারকদের ব্যবহৃত তথ্য খতিয়ে দেখছে। ফোনগুলি উত্তরপ্রদেশের নির্দিষ্ট একটি এলাকা থেকে আসার তথ্য সামনে আসায় তদন্তের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। প্রতারণার পিছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে যোগাযোগের সূত্র অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় বিধায়কদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদেরও অচেনা নম্বর থেকে আসা চাকরির প্রস্তাব যাচাই না করে কোনও ব্যক্তিগত তথ্য বা বায়োডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি মাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ।