রাতের আরজি করের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, চেস্ট মেডিসিন বিভাগে রক্ষী না থাকার অভিযোগ

রাতের আরজি করের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, চেস্ট মেডিসিন বিভাগে রক্ষী না থাকার অভিযোগ

রাতের আরজি কর হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন

রাতের সময়ে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী থাকছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে রোগী, তাঁদের পরিজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চেস্ট মেডিসিন বিভাগে রাতের সময়ে রোগী ভর্তি থাকার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও দায়িত্বে থাকেন। এমন একটি বিভাগে নিরাপত্তারক্ষীর উপস্থিতি না থাকা বা পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিরাপত্তাকর্মী না থাকার অভিযোগ সামনে আসায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাতের সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

চেস্ট মেডিসিন বিভাগে রক্ষী না থাকার অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের তুলনায় রাতের সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সামনে বা সংলগ্ন এলাকায় সবসময় নিরাপত্তারক্ষীর উপস্থিতি দেখা যায় না বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় রোগীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের সময়ে নির্দিষ্ট বিভাগগুলিতে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি উঠছে। অভিযোগটি কতটা সত্য এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মোতায়েনের ব্যবস্থা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারির প্রয়োজন

হাসপাতালের নিরাপত্তা শুধুমাত্র মূল গেট বা প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিভাগ, করিডর এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী নজরদারি থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাতের সময়ে রোগীর সঙ্গে থাকা পরিজন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচল তুলনামূলকভাবে কম থাকায় কোনও জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।

নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বিভাগে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম থাকলে বিকল্প নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হয়।

আরজি করের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে ঘিরে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি এবং পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে রাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিরাপত্তারক্ষী না থাকার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ পরিবেশে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি

চেস্ট মেডিসিন বিভাগে রাতে সত্যিই নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হচ্ছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ে কতজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে থাকেন এবং তাঁদের দায়িত্বের পরিধি কী—এই বিষয়গুলি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করার দাবি উঠেছে।

তবে নিরাপত্তারক্ষী না থাকার অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কোনও ঘাটতি খুঁজে পায়, তাহলে তা সংশোধনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। রাতের আরজি করের নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা এই প্রশ্নের ফলে হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিয়মিত নিরাপত্তা অডিটের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।