কলকাতায় আরও ২৫টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড, খাদ্যসুরক্ষায় পুরসভার কড়া পদক্ষেপ

কলকাতায় আরও ২৫টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড, খাদ্যসুরক্ষায় পুরসভার কড়া পদক্ষেপ

কলকাতায় আরও ২৫টি খাবারের দোকানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কলকাতা জুড়ে পুরসভার বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেই অভিযানের মধ্যেই বুধবার আরও ২৫টি রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান এবং মিষ্টির দোকানের খাদ্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরসভা। এর আগে মঙ্গলবার ৪০টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে দু’দিনে মোট ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে শহরের খাবারের দোকানগুলিতে পরিচ্ছন্নতা, খাবার সংরক্ষণ এবং খাদ্যসুরক্ষা বিধি কতটা মানা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

কী কারণে লাইসেন্স সাসপেন্ড

পুরসভার খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকদের অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক অনিয়ম নজরে এসেছে। কোথাও অপরিষ্কার রান্নাঘর, কোথাও খাবার রাখার ক্ষেত্রে নিয়ম না মানা, আবার কোথাও বাসি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। খাবারে ছত্রাক, পোকামাকড় এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মতো বিষয়ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ধরা পড়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

এর আগে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে শহরের ৫৯২টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছিল। এর মধ্যে রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, হোটেল, ফুড কোর্ট, বাজার এবং অন্যান্য খাদ্যবিপণি ছিল। অভিযান চলাকালীন ১৬১টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়। প্রায় ১,২২৪ কেজি অনুপযুক্ত বা অনিরাপদ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে বলেও পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।

দু’দিনে সাসপেন্ড ৬৫টি লাইসেন্স

মঙ্গলবার ৪০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্স সাসপেনশনের পর বুধবার আরও ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্যসুরক্ষা অভিযানের আওতায় দু’দিনে মোট ৬৫টি খাদ্যবিপণির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় চালানো পরিদর্শনে যে সব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর নিয়মভঙ্গ ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুরসভার বক্তব্য, শুধু নামী বা বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ছোট খাবারের দোকান ও অন্যান্য খাদ্যবিপণিতেও একই ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসামগ্রীর গুণমান, সংরক্ষণ পদ্ধতি, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকছে

লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়া মানেই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ম মেনে নিজেদের পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারবে। পরে পুরসভার আধিকারিকরা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এই সুযোগের কারণে ব্যবসায়ীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা, খাবার সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার না করা এবং খাদ্যসামগ্রীকে পোকামাকড় ও দূষণ থেকে সুরক্ষিত রাখার মতো বিষয়গুলিতে বিশেষ নজর দিতে বলা হচ্ছে।

পুজোর আগে নজরদারি আরও বাড়ছে

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাইরে খাওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। সেই সময় খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই পুরসভার নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

পুরসভা জানিয়েছে, খাদ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। আগামী দিনেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরিদর্শন এবং নমুনা সংগ্রহের কাজ চলবে। নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী নোটিস, লাইসেন্স সাসপেনশন বা অন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ক্রেতাদের সচেতন থাকার পরামর্শ

এই অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কোনও খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নষ্ট খাবার বা সন্দেহজনক খাদ্যসামগ্রী চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ রয়েছে। পুরসভার এই অভিযান শহরের খাদ্যবিপণিগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা আরও বাড়াবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

কলকাতায় আরও ২৫টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়ার ফলে খাদ্যসুরক্ষা অভিযান যে আরও কড়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে আরও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তার উপর নজর রাখবে কলকাতা পুরসভা।