আমলাতন্ত্রে স্বচ্ছতা আনতে কড়া নবান্ন, সপ্তাহে দুদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনবেন সরকারি অফিসাররা
আমলাতন্ত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে নবান্নের কড়া নির্দেশ
রাজ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। এবার থেকে সরকারি আধিকারিক বা আমলাদের সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছতে হবে। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমস্ত স্তরের সরকারি অফিসারদের সপ্তাহে অন্তত দুদিন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল যে, সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন অভাব, অভিযোগ ও সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি পৌঁছতে পারেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাধারণ সরকারি কাজ করাতেও নাগরিকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবং প্রশাসনের কাজে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে এই কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্যের মুখ্যসচিব ও নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের কড়া নজরদারিতে এই নতুন নিয়মটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক ও মহকুমা স্তর থেকে শুরু করে জেলা এবং রাজ্য স্তরের সমস্ত শীর্ষ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
- সপ্তাহের নির্দিষ্ট দুটি দিন আধিকারিকদের নিজেদের দপ্তরে উপস্থিত থেকে সরাসরি জনশুনানি করতে হবে।
- সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার পর তা ফেলে না রেখে, দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- কোন দপ্তরে কতগুলি অভিযোগ জমা পড়ল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার কতগুলির নিষ্পত্তি হলো, তার বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়মিত নবান্নে পাঠাতে হবে।
নজরদারি ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি
রাজ্য সরকার চাইছে, সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই তাঁদের প্রাপ্য সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। বিভিন্ন দপ্তরের কাজে গতি আনতে এবং স্বজনপোষণ বা দুর্নীতি দমনে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে সরকারি আধিকারিকদের ওপর যেমন প্রশাসনিক নজরদারি বাড়বে, ঠিক তেমনই নিজেদের কাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতাও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নবান্নের এই কড়া নির্দেশিকার ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে এক নতুন কর্মসংস্কৃতি তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হলে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা আরও সহজে তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। গোটা প্রক্রিয়ার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবে রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর।