রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে আতঙ্ক, ফাটল ও ধসের আশঙ্কায় খাঁড়রা কোলিয়ারি সিল করার সিদ্ধান্ত ECL-এর

রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে আতঙ্ক, ফাটল ও ধসের আশঙ্কায় খাঁড়রা কোলিয়ারি সিল করার সিদ্ধান্ত ECL-এর

রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে ধস ও ফাটলের আশঙ্কায় বড় সিদ্ধান্ত ECL-এর

মাটির নিচে ফাটল ও লাগাতার ধসের প্রবল আশঙ্কায় রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কয়লা খনি সিল করার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএল (ECL)। খনি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কোলিয়ারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

খনি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই রানিগঞ্জের খাঁড়রা কোলিয়ারি এবং তার পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলিতে মাটির নিচে ফাটল দেখা দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সামান্য বৃষ্টি বা কম্পনেই এলাকার বহু বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। এর পরেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খনির ভূগর্ভস্থ কাজ বন্ধ রাখা এবং এলাকাটি সিল করার প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু করে ইসিএল কর্তৃপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: খনিগর্ভের বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও মাটির দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি পরিদর্শন করেছিল। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।

  • খাঁড়রা কোলিয়ারির সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
  • বেআইনি খনিগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
  • ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলির জন্য পুনর্বাসনের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন ধরে রানিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধস নামার সমস্যা এক স্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে। বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছিল। খাঁড়রা কোলিয়ারি সিল করার এই পদক্ষেপে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা বাড়লেও জীবিকা ও বাসস্থান হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে খনি চত্বরে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিপজ্জনক জোনগুলিতে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসিএল ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পরবর্তী পুনর্বাসন ও উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে।