হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় পদ্মশ্রী প্রাপকদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের আর্জি সাংসদ রাজু বিস্তার

হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় পদ্মশ্রী প্রাপকদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের আর্জি সাংসদ রাজু বিস্তার

হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের দাবি দার্জিলিংয়ের সাংসদের

হিমালয় অঞ্চলের ক্রমশ অবনতিশীল পরিবেশগত পরিস্থিতি সামাল দিতে এক অভিনব ও দূরদর্শী প্রস্তাব দিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে দেশের বিশিষ্ট পদ্মশ্রী প্রাপকদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো সওয়াল করেছেন সাংসদ।

সাংসদ সূত্রে জানা গেছে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পর্যটন, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। পাহাড়ের এই ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে সাধারণ প্রশাসনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত গুণীজনদের নিয়ে একটি স্বাধীন সমীক্ষা কমিটি গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। এই মর্মে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে ও মন্ত্রকের কাছে আবেদনপত্র পেশ করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ধসপ্রবণ এলাকাগুলির সঠিক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য এই বিশেষ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ মহলও।

  • সাংসদ রাজু বিস্তার এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
  • পদ্মশ্রী প্রাপকদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি جامع বা সামগ্রিক পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দার্জিলিং সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গকে বাঁচাতে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সচেতনতা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

দার্জিলিং ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে যেভাবে পরিবেশের অবক্ষয় ঘটছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরাও। সাংসদের এই বিশেষ কমিটি গঠনের আর্জি বাস্তবায়িত হলে হিমালয়ের ভূ-প্রকৃতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে কী ধরনের সাড়া মেলে এবং আগামী দিনে পরিবেশগত সমীক্ষার জন্য কোনো নতুন প্রশাসনিক প্যানেল তৈরি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।