শিলিগুড়িতে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৩ করার সিদ্ধান্ত, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

শিলিগুড়িতে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৩ করার সিদ্ধান্ত, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ড বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৩টি করার সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এর বিরোধিতায় মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। ফলে আগামী দিনের পৌর নির্বাচন ও প্রশাসনিক কাজকর্মে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জনবসতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিষেবা প্রদানে ঘাটতি দেখা দিচ্ছিল। সাধারণ নাগরিকদের উন্নত নাগরিক পরিষেবা ও নিকাশি ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। বর্তমান ৪৭টি ওয়ার্ডের সীমানা ভেঙে নতুন বিন্যাসের মাধ্যমে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৩টিতে উন্নীত করার প্রাথমিক রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে উন্নয়নের স্বার্থে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করা হলেও, বিরোধীরা এর নেপথ্যে রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছে।

  • শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান ভৌগোলিক সীমানা এবং জনসংখ্যা বিন্যাসকে ভিত্তি করে নতুন এই ওয়ার্ড বিন্যাস করা হচ্ছে।
  • বিরোধী দলগুলির দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই অপরিকল্পিতভাবে এই সীমানা পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা জনমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।
  • নতুন ওয়ার্ড গঠিত হলে সেখানকার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন ও তহবিলের বরাদ্দ কীভাবে বন্টিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের থেকে এই বিষয়ে মতামত ও আপত্তি জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও ধার্য করা হয়েছে। সমস্ত পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।