শিলিগুড়ি করিডোরে নিরাপত্তা জোরদারে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড চালুর ঘোষণা
শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ
দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা শিলিগুড়ি করিডোর (যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত)-এর নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়াতে একটি নতুন ও কঠোর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড (Three-Tier Security Grid) চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটির ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলির যৌথ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল রূপরেখা
এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে করিডোরটির সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একাধিক স্তরে নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে:
- প্রথম স্তর (আউটার পেরিমিটার): আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ (BSF) এবং এসএসবি (SSB)-র কড়া টহলদারি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া।
- দ্বিতীয় স্তর (মধ্যবর্তী জোন): রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে সন্দেহভাজন গতিবিধি ও স্লিপার সেলের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা।
- তৃতীয় স্তর (কোর সিকিউরিটি): ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত কমব্যাট ইউনিটগুলির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি।
নিরাপত্তার কারণ ও কৌশলগত গুরুত্ব
প্রতিবেশী দেশগুলির সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন এই ত্রিস্তরীয় গ্রিড চালু হওয়ার ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এবং যেকোনো সম্ভাব্য নাশকতামূলক চক্রান্ত কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।