বালাগড় বন্দরে ৪০৭ কোটি টাকার প্রকল্প, পিপিপি মডেলে তৈরি হবে কনটেনার ও কয়লা বার্থ
বালাগড়ে ৪০৭ কোটি টাকার বন্দর প্রকল্প
হুগলির বালাগড়ে কলকাতা বন্দরের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪০৭.২০ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। পিপিপি বা Public-Private Partnership মডেলে এই প্রকল্পে কনটেনার এবং কয়লা পরিবহণের জন্য পৃথক বার্থ তৈরি করা হবে। বালাগড়কে কলকাতা বন্দরের বিকল্প বাণিজ্যিক ও পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। সম্প্রতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
কনটেনার ও কয়লা বার্থ তৈরি হবে
প্রকল্পের আওতায় বালাগড়ে কনটেনার এবং কয়লা বা বাল্ক কার্গোর জন্য আধুনিক বার্থ তৈরি করা হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই অংশের আনুমানিক ব্যয় ৪০৭.২০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি DBFOT বা Design, Build, Finance, Operate and Transfer পদ্ধতিতে পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত বেসরকারি সংস্থা প্রকল্পের নির্মাণ, অর্থায়ন এবং পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
প্রস্তাবিত বার্থগুলির মোট কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে প্রায় ২.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এর মধ্যে কনটেনার কার্গোর জন্য প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং বাল্ক কার্গোর জন্য প্রায় ০.৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতা নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
কেন গুরুত্বপূর্ণ বালাগড়ের এই প্রকল্প
কলকাতা শহরের ভিতর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের চাপ কমানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। বর্তমানে বন্দরের পণ্য পরিবহণের একটি অংশ শহরের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হওয়ায় যানজট ও লজিস্টিক খরচ বাড়ে। বালাগড়ে আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং পরিকাঠামো তৈরি হলে পণ্য পরিবহণের একটি অংশ জলপথে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে শহরের সড়কপথের উপর চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের দক্ষতাও বাড়তে পারে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
প্রকল্পটি National Waterway-1 বা জাতীয় জলপথ-১-এর ব্যবহার বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। জলপথে বেশি পণ্য পরিবহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে লজিস্টিক খরচ কমানো এবং বিকল্প বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। বালাগড়কে সেই বৃহত্তর জলপথ-ভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
পিপিপি মডেলে বেসরকারি বিনিয়োগ
এই প্রকল্পের পিপিপি অংশে বেসরকারি সংস্থাকে বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, সফল সংস্থার সঙ্গে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দরপত্রে প্রতি মেট্রিক টন কার্গোর জন্য সর্বোচ্চ রয়্যালটি দেওয়ার প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংস্থা নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
সরকারি ই-টেন্ডার নথিতে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ৪০৭.২০ কোটি টাকা এবং Earnest Money Deposit বা EMD ৪.০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ এবং বিড খোলার তারিখ ১৫ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}
বালাগড়কে বিকল্প বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা
বালাগড় প্রকল্পটি শুধু একটি বন্দর পরিকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নয়, কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বালাগড়ে প্রায় ২.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের যানজট কমানো, লজিস্টিক খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প বাণিজ্যিক হাব তৈরি করার সুবিধা মিলতে পারে। :contentReference[oaicite:7]{index=7}
প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই কলকাতা বন্দরের হাতে রয়েছে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রও পাওয়া গিয়েছে। পুরো প্রকল্পে পিপিপি অংশের পাশাপাশি EPC বা Engineering, Procurement and Construction অংশও রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৫৩৯.১৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪০৭.২০ কোটি টাকা পিপিপি অংশের জন্য এবং বাকি অংশ EPC কাজের সঙ্গে যুক্ত। :contentReference[oaicite:8]{index=8}
পিপিপি অংশের পরিকাঠামো কনসেশন দেওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে বালাগড়ের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হুগলি তথা পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় জলপথের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।