কলকাতা পুরসভার নতুন নির্দেশিকা: উচ্ছেদ ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানে পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য চেকলিস্ট জারি
কলকাতা পুরসভার নতুন নির্দেশিকা: উচ্ছেদ ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানে সুনির্দিষ্ট চেকলিস্ট
শহরে রমরমিয়ে চলা বেআইনি নির্মাণ এবং জবরদখল হটাতে এবার আরও সুশৃঙ্খল ও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কলকাতা পৌরসংস্থা (KMC)। উচ্ছেদ এবং বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চেকলিস্ট বা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল আদালতের নির্দেশ বা প্রশাসনিক আদেশের সঠিক রূপায়ণ এবং অভিযানের সময় অনভিপ্রেত বিশৃঙ্খলা বা আইনি জটিলতা এড়ানো।
পৌরভবন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বহু ক্ষেত্রে উচ্ছেদ বা ভাঙার কাজ চালাতে গিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা সমন্বয়ের অভাবে নানা বাধার মুখে পড়তে হতো। নতুন চেকলিস্ট অনুযায়ী, অভিযানের আগে নির্দিষ্ট নোটিশ প্রদান, স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঠিক বিন্যাস, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত এবং ভিডিওগ্রাফি করার মতো একাধিক বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে এই প্রোটোকল মেনে চললে কাজের স্বচ্ছতা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কোনো রকম আইনি লopholes বা ফাঁকফোকর এড়াতে প্রতিটি পদক্ষেপ নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
- অভিযানের ঠিক আগে সংশ্লিষ্ট জোনের আধিকারিকদের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে সমস্ত নথিপত্র যাচাই করতে হবে।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ভাঙার কাজের পুরো প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরা বা ভিডিওর মাধ্যমে রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও কঠোর প্রশাসনিক বার্তা
পৌর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশিকার ফলে শহরের বেআইনি নির্মাণ রুখতে অভিযানের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই কাজের ক্ষেত্রে জাববাবদিহিতাও সুনিশ্চিত হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং বেআইনি জবরদখলমুক্ত তিলোত্তমা গড়ে তুলতে এই চেকলিস্ট এক মাইলফলক হতে চলেছে।
রাজধানীর মতো মেট্রো শহরে বেআইনি জবরদখল ও নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।