২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা, কলকাতার ১১টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালাল ইডি
২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি মামলায় কলকাতায় ইডির মেগা অভিযান
রাজ্যে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ফের বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ২৯০ কোটি টাকার একটি বিশাল ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার মামলায় কলকাতার মোট ১১টি আলাদা ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ (PMLA)-র আওতায় এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক মহলে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডে একটি ৬৬ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্ল্যান্ট বা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্ক থেকে বিরাট অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল ‘কোহিনূর পাওয়ার’ নামক একটি সংস্থা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, সেই সমস্ত ঋণের কোটি কোটি টাকা প্রকল্পের কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ অন্য গ্রুপ কোম্পানি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তীকালে কোম্পানিটি ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)-এর দ্বারস্থ হয় এবং লিকুইডেশনের মাধ্যমে নামমাত্র অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় ব্যাঙ্কগুলির বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লোন কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে কলকাতার ১১টি ভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে ইডির গোয়েন্দারা।
- কোহিনূর পাওয়ার নামক সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অর্থ পাচারের মামলার ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।
- সংস্থার মূল প্রমোটার প্রশান্ত বোথরা এবং বিজয় বোথরাসহ অন্যান্য ডিরেক্টর ও অ্যাকাউন্টেন্টদের ঠিকানায় হানা দেন তদন্তকারীরা।
- ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- তল্লাশি চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
আর্থিক অনিয়ম ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই জালিয়াতির নেপথ্যে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করেছে। লিকুইডেশন প্রক্রিয়ায় ঋণের অতি সামান্য অংশই পুনরুদ্ধার হওয়ায় আর্থিক লেনদেনের উৎস ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত অভিযুক্তদের বাড়ি ও দপ্তরে এই ম্যারাথন তল্লাশির ফলে আরও নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।