গর্ভাবস্থায় নানারকম অবৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাবেন আশা কর্মীরা
গর্ভাবস্থায় অবৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞা দূর করতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাবেন আশা কর্মীরা
গ্রামীণ সমাজে গর্ভাবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত নানা অবৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞা ও কুসংস্কার ভাঙতে এবার সরাসরি মাঠে নামছেন আশা কর্মীরা। গর্ভবতী নারীদের ওপর বিভিন্ন খাবারের কড়াকড়ি, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় বিশেষ নিয়ম মেনে চলার অজুহাত এবং প্রথাগত ভুলের কারণে বহু মা ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এই অন্ধবিশ্বাসগুলো সমাজ থেকে নির্মূল করতে এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি বিশেষ প্রচার অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের বহু পরিবারে আজও গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে বা নানা অবৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় নারীদের। এর ফলে গর্ভবতী মায়েরা পুষ্টিহীনতায় ভোগেন এবং প্রসবকালীন জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে আশা কর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে হবু মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। কুসংস্কারের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব তাদের বুঝিয়ে বলা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আশা কর্মীদের এই বাড়ি বাড়ি প্রচারে গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকাকরণের সঠিক সময় সম্পর্কেও সচেতন করা হবে।
- গর্ভাবস্থায় প্রচলিত ক্ষতিকর ও অবৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
- গর্ভবতী নারীদের পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় বিশ্রামের গুরুত্ব পরিবারকে বোঝানো।
- ওঝা বা অবৈজ্ঞানিক প্রথার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার অভ্যাস গড়া।
- মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বার্তা দেওয়া।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা
মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে আশা কর্মীদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথাগত অন্ধবিশ্বাসের বেড়াজাল ভেঙে যখন বৈজ্ঞানিক উপায়ে গর্ভাবস্থা পরিচালনার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, তখন বহু অনভিপ্রেত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই ধারাবাহিক প্রচার সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।
প্রশাসন ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের আশা, আশা কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কারের অন্ধকার দূর হবে এবং প্রতিটি গর্ভবতী নারী নিরাপদ ও সুস্থ মাতৃত্বের সুযোগ পাবেন। অবৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এই সচেতনতামূলক অভিযান সমাজের প্রতিটি কোণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।