রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে দেবীর পুজো নয়, টীকার ওপর ভরসা রাখার বার্তা দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে র্যালি
রোগের প্রকোপ রোধে দেবীর পুজো নয়, টীকার ওপর ভরসা রাখার বার্তা দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে র্যালি
মহামারী বা বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দেবীর সন্তুষ্টির নামে পুজো-পার্বণ কিংবা মানত করার পুরনো অন্ধবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে টিকাকরণের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখার ডাক দেওয়া হলো। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনও সংক্রামক রোগ ছড়ালে ওঝা-বৈদ্যের শরণাপন্ন হওয়ার বা বিশেষ পুজো দিয়ে রোগ তাড়ানোর কুসংস্কার দেখা যায়। এই অবৈজ্ঞানিক ধারণা ভেঙে সাধারণ মানুষকে আধুনিক চিকিৎসার আলোয় আনতে এবং টিকাকরণের গুরুত্ব বোঝাতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামলেন সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এলাকার অলিতে-গলিতে আয়োজিত হলো বিশেষ সচেতনতামূলক র্যালি।
গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ আজও মনে করেন যে বসন্ত, কলেরা কিংবা হামের মতো রোগগুলি বুঝি কোনো দেবীর কোপের ফলেই হয়ে থাকে, তাই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেয়ে পুজোপাঠেই তাদের বেশি আস্থা। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা—এই ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ একমাত্র সম্ভব সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমেই। এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই আজকের এই বর্ণাঢ্য র্যালি। হাতে প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্লোগান তুলেছেন, রোগের ওষুধ পুজো নয়, একমাত্র টিকা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: র্যালির পাশাপাশি এলাকার প্রতিটি পরিবারকে টিকার নির্দিষ্ট সময়সূচি ও এর সুফল সম্পর্কে অবগত করা হয়, যাতে কোনো শিশুই টিকাকরণ থেকে বাদ না পড়ে।
- রোগ প্রতিরোধে দেবীর পুজো বা মানতের অবৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে মানুষকে মুক্ত করা।
- স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রচার করা।
- গ্রামাঞ্চলে টিকাকরণ নিয়ে ভীতি বা গুজব দূর করা।
- বিজ্ঞানের জয়গান গেয়ে সমাজ থেকে কুসংস্কার চিরতরে নির্মূল করা।
বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে জনসচেতনতার গুরুত্ব
এই ধরনের সচেতনতামূলক র্যালি গ্রামীণ জনপদে প্রভূত প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজের এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মুখে টিকার কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শোনেন, তখন তাদের দীর্ঘদিনের অন্ধবিশ্বাস অনেকটাই কেটে যায়। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এখন প্রত্যন্ত গ্রামের মায়েরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং তারা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দেবীর পুজোর বদলে টীকার ওপর ভরসা রাখার এই অভিনব বার্তা গ্রামীণ বাংলার স্বাস্থ্যের ছবিটা বদলে দিতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।