যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতে তুমুল সংঘর্ষ: এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘাতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, আহত একাধিক
মধ্যরাতে রণক্ষেত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। ১৯ আগস্ট রাত থেকে ২০ আগস্টের প্রথম প্রহর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, ইট-পাথর ছোড়া এবং আগুন জ্বালানোর অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় উভয় পক্ষের একাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
কী নিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছাত্র সংসদ না থাকা অবস্থায় এই ধরনের বৈঠক ডাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই তাদের সঙ্গে SFI, DSO, DSF-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের বচসা শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
দুই পক্ষেরই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ
এই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও অশান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছে। এবিভিপির অভিযোগ, তাদের সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, এবিভিপি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে আগুন জ্বালায় এবং পড়ুয়াদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাই ও তদন্তের বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
অরবিন্দ ভবনের সামনে চরম উত্তেজনা
সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবন সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে খবর। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পোস্টার ও পতাকায় আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে এবিভিপির দাবি, ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজনের দিক থেকে তাদের সমর্থকদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলতে থাকে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
আহত একাধিক, হাসপাতালে চিকিৎসা
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ছাত্র নেতা ও সমর্থক আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এবিভিপির দাবি, তাদের ৬ থেকে ৭ জন সমর্থক আহত হন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে এবিভিপির বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নিখিল রায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার কথাও জানানো হয়েছে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
পুলিশ পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি
রাতের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পুলিশের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর যাদবপুর থানা সংলগ্ন এলাকায়ও এবিভিপির বিক্ষোভ হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
এবিভিপির প্রতিবাদ কর্মসূচি, উত্তেজনা অব্যাহত
ঘটনার পর এবিভিপি পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও ঘটনার প্রতিবাদে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে সংঘর্ষের পরও ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। :contentReference[oaicite:6]{index=6}
এক নজরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ
- স্থান: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা
- সময়: ১৯ আগস্ট গভীর রাত থেকে ২০ আগস্টের প্রথম প্রহর
- দুই পক্ষ: এবিভিপি ও SFI-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন
- অশান্তির সূত্র: FETSU-এর জেনারেল বডি মিটিং ঘিরে বিতর্ক
- অভিযোগ: মারামারি, ইট-পাথর ছোড়া, ভাঙচুর ও আগুন জ্বালানো
- আহত: উভয় পক্ষের একাধিক সমর্থক আহত হওয়ার খবর
- পুলিশ: ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
- বর্তমান পরিস্থিতি: উত্তেজনা রয়েছে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ও ক্যাম্পাস প্রশাসনকে ঘিরে এই সংঘর্ষ নতুন করে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই ঘটনার জন্য দুই পক্ষের সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি সামনে আসায় তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং উভয় ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচির উপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়।
শেষ কথা
জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক মধ্যরাতে বড় সংঘর্ষে পরিণত হওয়ায় ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। একাধিক ছাত্র আহত হওয়ার খবর মিলেছে এবং পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর আরও স্পষ্ট হবে।