কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি ৪ বছরের শিশুও রয়েছে। ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ভোররাতে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে থাকায় ঘন ধোঁয়ার মধ্যে অনেকে আটকে পড়েন। আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ও ঘন ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

ভোররাতে আগুন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক

দমকল ও পুলিশ সূত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোররাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থলটি মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট বা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায়, নিউ মার্কেটের কাছাকাছি। আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নিহত ৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক

সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁরা মূলত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং একটি ৪ বছরের শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি

এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। তবে আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রশাসনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আপডেটের অপেক্ষা রয়েছে।

প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে

আগুন লাগার পর দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাঁচতলা ভবনটি থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

দমকলের একাধিক ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে তৈরি হওয়া ঘন ধোঁয়া উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আগুনের কারণ কী?

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন। কিছু প্রাথমিক প্রতিবেদনে একটি AC-সংক্রান্ত বিস্ফোরণ বা ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে আগুনের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সরু যাতায়াতের পথ, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আগুনের উৎস, ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ বা কারও দায় নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তারাপীঠের ঘটনার পর ফের ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ড

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গে হোটেল অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্যের হোটেল ও অন্যান্য আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলকাতার এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর পরিদর্শনের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।

শেষ কথা

চিকিৎসার আশায় কলকাতায় এসে ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরও ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার অবস্থা এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও পরবর্তী আপডেটে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।