অনলাইনে সস্তা ওষুধ কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সেবনের ফলে বাড়ছে শারীরিক জটিলতা
অনলাইনে সস্তা ওষুধ কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়ার ফলে বাড়ছে শারীরিক জটিলতা
ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে খুব সহজেই সস্তায় ওষুধ পাওয়ার লোভে পড়ে সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অনলাইনে ওষুধ কিনছেন। কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে এই সমস্ত অবৈজ্ঞানিক ও অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবনের ফলে মানুষের শরীরে নানা নতুন রোগের জটিলতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যের কথা না ভেবে কেবল আর্থিক সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এই অন্ধ প্রবণতা ডেকে আনছে বড় ধরনের বিপদ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য শক্তিশালী ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ রোগেও ওষুধ আর কাজ করছে না। এছাড়া অনলাইন থেকে কেনা অনেক ওষুধই গুণগত মানে খারাপ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় লিভার ও কিডনির অপূরণীয় ক্ষতি ঘটাচ্ছে। সঠিক ডোজ ও রোগ নির্ণয় ছাড়া যথেচ্ছ ওষুধ সেবন রোগীর অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য রেজিস্টার্ড ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি।
- অনলাইন থেকে সস্তায় ওষুধ কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা।
- নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ সেবনের ফলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও অন্যান্য অঙ্গহানির ঝুঁকি।
- মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের ওষুধের প্রভাবে নতুন নতুন শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হওয়া।
- স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সচেতন হয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকা।
স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস নয়, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা
সামান্য অর্থ বাঁচানোর মোহে অনলাইনে ভেজাল বা অপরীক্ষিত ওষুধ কিনে খাওয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সাধারণ মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ—এই কথা মাথায় রেখে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সচেতনতাই পারে এই ধরনের ভুল চিকিৎসার হাত থেকে জীবন রক্ষা করতে।