রাতে ভূমিকম্প হলে কী করবেন? ঘুমের সময় নিরাপদ থাকার জরুরি প্রস্তুতি

রাতে ভূমিকম্প হলে কী করবেন? ঘুমের সময় নিরাপদ থাকার জরুরি প্রস্তুতি

গভীর রাতে বা ঘুমের সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ভূমিকম্প অনুভূত হলে জীবন বাঁচাতে প্রথম মুহূর্তে কী করা উচিত?

দিনেরবেলা ভূমিকম্প হলে মানুষ সাধারণত দ্রুত খোলা স্থানে বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পেলেও, গভীর রাতে বা ঘুমের সময় হঠাৎ তীব্র ভূকম্পন শুরু হলে মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অন্ধকারের কারণে চারপাশ দেখতে না পাওয়া এবং ঘুম থেকে জেগে পরিস্থিতি বুঝতে কিছুটা সময় লাগার কারণে এই সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘুমের ঘরে মাথার ওপর ঝুলে থাকা সিলিং ফ্যান, ভারী আলমারি, বা জানলার কাঁচ ভেঙে পড়ার ফলে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রাতে ভূমিকম্পের মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে বিছানায় শুয়েই মাথা ও ঘাড় রক্ষা করার সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশল মেনে চলা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক।

রাতে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা না করে কম্বল বা বালিশ দিয়ে মাথা এবং ঘাড় ঢেকে শক্ত বিছানার পাশে মেঝেতে 'ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড' (Drop, Cover and Hold On) পজিশনে শুয়ে পড়া সবচেয়ে নিরাপদ। যদি বিছানার ঠিক ওপরে ভারী ছবি, এসি বা কাঁচের ফ্রেম থাকে, তবে দ্রুত গড়িয়ে বিছানার পাশে ফ্লোরে নেমে সুরক্ষিত দূরত্ব বজায় রাখুন। কোনো অবস্থাতেই মাঝরাতে অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার বা লিফট ব্যবহার করার ঝুঁকি নেবেন না। সঠিক জ্ঞান, তাৎক্ষণিক সচেতনতা এবং আগে থেকে নেওয়া সামান্য প্রস্তুতিই পারে আপনার রাতের ঘুমকে সুরক্ষিত রাখতে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাতে ভূমিকম্প হলে অন্ধকারে দৌড়াদৌড়ি না করে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে বিছানার পাশে মেঝেতে ড্রপ ও কভার পজিশনে থাকতে হবে এবং টর্চলাইট হাতের কাছে রাখতে হবে।

  • ঘুম ভাঙার পর বিছানা ছেড়ে না দৌড়ে বালিশ বা কুশন দিয়ে মাথা এবং মুখ শক্ত করে ঢেকে রাখা
  • বিছানার ঠিক পাশে মেঝেতে নেমে হাঁটু গেয়ে বসে শক্ত কোনো আসবাবের নিচ বা কোণায় আশ্রয় নেওয়া
  • অন্ধকারে চলাচলের সময় কাঁচের টুকরো বা ভাঙা জিনিসের আঘাত এড়াতে বিছানার পাশে স্লিপার বা জুতো রাখা
  • শয়নকক্ষের দরজার পেছনে বা বালিশের নিচে একটি ছোট ইমার্জেন্সি টর্চলাইট ও হুইসেল বা বাঁশি মজুত রাখা

রাতের ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে করণীয় এবং ঘর নিরাপদ করার কৌশল

ভূমিকম্পের প্রধান ঝাঁকুনি থেমে যাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কিছু বাড়তি সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন। প্রথমত, **টর্চলাইট ব্যবহার করুন**: বিদ্যুৎ চলে গেলে দেশলাই বা মোমবাতি জ্বালানোর আগে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করুন এবং সুরক্ষার জন্য শুধুমাত্র টর্চলাইট ব্যবহার করুন। দ্বিতীয়ত, **সাবধানে ঘর ছাড়ুন**: যদি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে জুতো পরে সাবধানে বেরিয়ে আসুন এবং আফটার শকের জন্য প্রস্তুত থাকুন।

পরিশেষে, বাড়ির সমস্ত বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ এবং গ্যাসের নব বন্ধ করে দিন। সচেতনতা, সঠিক প্রস্তুতি এবং ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্তই হলো রাতে ঘটে যাওয়া যেকোনো দুর্যোগ থেকে জীবন রক্ষা করার প্রধান চাবিকাঠি।