বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে কী করবেন? আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার নিরাপদ নিয়ম

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে কী করবেন? আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার নিরাপদ নিয়ম

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ আহত হলে জীবন বাঁচাতে প্রথম মুহূর্তে কী করা উচিত?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ অপরিহার্য হলেও সামান্য অসাবধানতা বা ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিংয়ের কারণে এটি মারাত্মক প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ঘরের ফ্যান, সুইচবোর্ড, ফ্রিজ কিংবা খোলা তারের সংস্পর্শে এসে যেকোনো মানুষ মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Electric Shock) হতে পারেন। এই ধরনের বিপদের সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই না বুঝে আহত ব্যক্তিকে সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করার ভুল করে বসেন, যার ফলে উদ্ধারকারী নিজেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া কোনো ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে সুনির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তার নিয়ম ও প্রাথমিক চিকিৎসার পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বাঁচানোর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করার আগেই মূল বিদ্যুতের উৎস (Main Switch) বন্ধ করা বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা। যদি মেইন সুইচ সহজে নাগালে না থাকে, তবে কাঠের লাঠি, প্লাস্টিকের পাইপ কিংবা শুকনো খবরের কাগজের বান্ডিলের মতো বিদ্যুৎ অপরিবাহী (Non-conductive) বস্তু ব্যবহার করে তার বা আহত ব্যক্তিকে সরিয়ে দিতে হবে। সঠিক সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয় এবং আহত ব্যক্তির বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধার করার সময় কখনো সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না; সবার আগে মেইন সুইচ বন্ধ করতে হবে অথবা শুকনো কাঠের লাঠি দিয়ে তার দূরে সরাতে হবে।

  • সবার আগে দ্রুত ঘরের বা সংশ্লিষ্ট এলাকার বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার অফ করা
  • কোনো অবস্থাতেই ভেজা হাত বা খালি পায়ে আহত ব্যক্তির গায়ে হাত না দেওয়া
  • বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু বা লোহার রড ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ শুকনো কাঠের লাঠি বা প্লাস্টিক দিয়ে তার সরান
  • আহত ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকলে তার নিচে শুকনো কম্বল বা রাবার ম্যাট দিয়ে insulate করা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পাঠানোর নিয়ম

বিদ্যুতের উৎস থেকে আহত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করার পর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমত, **পালস ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করুন**: আহত ব্যক্তির চেতনা আছে কি না এবং তিনি শ্বাস নিচ্ছেন কি না তা দেখুন। যদি তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর (CPR) দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। দ্বিতীয়ত, **পোড়া জায়গা ঠান্ডা করুন**: বিদ্যুতের ঝাপটায় শরীরের যে অংশ পুড়ে গেছে সেখানে পরিষ্কার ঠান্ডা জল ঢেলে দিন এবং সুতির কাপড় দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিন।

পরিশেষে, আঘাতের তীব্রতা কম মনে হলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর অবশ্যই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, কারণ ভেতরগত টিস্যু বা হার্টের কার্যকারিতায় পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সচেতনতা, সঠিক সুরক্ষা নিয়ম এবং সময়মতো চিকিৎসা দানই হলো বিদ্যুৎ দুর্ঘটনা থেকে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।