স্মার্টফোন কি খুব স্লো বা ধীরগতির হয়ে গেছে? মোবাইল ফোনের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী উপায় ও সেটিংস

স্মার্টফোন কি খুব স্লো বা ধীরগতির হয়ে গেছে? মোবাইল ফোনের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী উপায় ও সেটিংস

স্মার্টফোন ধীরে চলার কারণ ও তার প্রতিকার

হাতে থাকা স্মার্টফোনটি যদি হঠাৎ খুব ধীরগতিতে কাজ করতে শুরু করে বা অ্যাপ খুলতে অতিরিক্ত সময় নেয়, তবে তা আমাদের দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। নতুন কেনার সময় ফোনটি খুব দ্রুত কাজ করলেও দিন যত এগোয়, স্টোরেজ ভর্তি হওয়া, ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর অ্যাপ চালু থাকা এবং ক্যাশ ফাইলের জমার কারণে ফোন স্লো হয়ে যায়। তবে নতুন ফোন না কিনেও কিছু সাধারণ নিয়ম ও ফোনের নিজস্ব কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে ডিভাইসের স্পিড অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। একটু সচেতনতা আপনার পুরোনো বা স্লো হয়ে যাওয়া ফোনটিকেও নতুনের মতো দ্রুতগতির করে তুলতে পারে।

ফোনের স্পিড কমে যাওয়ার পেছনে ইন্টারনাল স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া অন্যতম প্রধান কারণ। ইন্টারনাল মেমোরি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সিস্টেমের প্রসেসর ঠিকমতো কাজ করার জায়গা পায় না। এছাড়া গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের প্রচুর ক্যাশ ডাটা এবং ফোনের পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমের কারণেও ফোন হ্যাং বা ল্যাগ করতে শুরু করে। নিয়মিত ফোন অপ্টিমাইজ করলে এই ধরনের সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মোবাইল ফোনের স্পিড দ্রুত বাড়াতে এবং পারফরম্যান্স উন্নত করতে নিচে কয়েকটি কার্যকর টিপস ও সেটিংস পরিবর্তনের কথা বলা হলো:

  • স্টোরেজ ফাঁকা রাখুন: ফোনের মোট ইন্টারনাল স্টোরেজের অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জায়গা সবসময় ফাঁকা রাখার চেষ্টা করুন এবং ভারী ফাইল বা ছবি ক্লাউডে ব্যাকআপ করুন।
  • ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস সীমিত করুন: ডেভলপার অপশন থেকে 'Background Process Limit' কমিয়ে দিন অথবা অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলোর অনুমতি বন্ধ করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন: যে অ্যাপগুলো আপনার ফোনে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলোকে অবিলম্বে আনইনস্টল বা ডিজেবল করে দিন।
  • ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করুন: ফোনের সেটিংস থেকে স্টোরেজে গিয়ে Cached Data বা ক্যাশ ফাইল নিয়মিত ডিলিট করুন, যা র‍্যামের ওপর চাপ কমায়।

অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে ফোনের গতি বৃদ্ধি

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্পিড বাড়ানোর আরেকটি দারুণ ও জাদুকরী উপায় হলো অ্যানিমেশন স্কেল পরিবর্তন করা। এর জন্য ফোনের 'About Phone' অপশনে গিয়ে 'Build Number'-এ পরপর সাতবার ট্যাপ করলে ডেভেলপার অপশন চালু হয়ে যাবে। এরপর ডেভেলপার অপশন থেকে 'Window animation scale', 'Transition animation scale' এবং 'Animator duration scale' অপশনগুলো ১x থেকে কমিয়ে ০.৫x করে দিন অথবা একদম বন্ধ করে দিন। এটি করলে আপনার ফোন কোনো ল্যাগ ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো অ্যাপ ওপেন ও ক্লোজ করতে পারবে।

সংক্ষেপে, নিয়মিত ফোন রিবুট করা, সফটওয়্যার আপডেট রাখা এবং ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে আপনার স্মার্টফোন দীর্ঘদিন সুপারফাস্ট রাখা সম্ভব। একটু যত্ন নিলে স্লো হয়ে যাওয়া ফোনও আবার নতুনের মতো দ্রুত কাজ করবে।