কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ক্লাবের যুব সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলির উদ্যোগে শুরু হলো দেওয়াল লিখন
কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ক্লাবের যুব সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলির উদ্যোগে দেওয়াল লিখন
সমাজ থেকে সমস্ত ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও অবৈজ্ঞানিক কুপ্রথা উচ্ছেদ করতে এবার প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করল এলাকার যুবসমাজ ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। পাড়ায় পাড়ায়, রাস্তার মোড়ে এবং দেওয়ালের গায়ে রঙের তুলিতে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা লিখে সচেতনতা প্রসারের কাজ শুরু হয়েছে। ওঝাগিরি, ডাইনি প্রথা কিংবা নানা অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে এই দেওয়াল লিখন কর্মসূচি এখন দারুণ সাড়া ফেলেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেওয়াল লিখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, বর্তমানে সমাজ সংস্কারের এই মহৎ উদ্দেশ্যে এর ব্যবহার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ক্লাবের তরুণেরা এবং ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা একজোট হয়ে শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে বিজ্ঞানভিত্তিক নানা স্লোগান ও চিত্র ফুটিয়ে তুলছেন। 'ওঝা নয়, হাসপাতাল', 'অন্ধবিশ্বাস দূর করো, বিজ্ঞানমনস্ক হও'—এই ধরনের আকর্ষণীয় ও জীবনমুখী স্লোগানগুলি পথচলতি মানুষের নজর কাড়ছে এবং তাদের ভাবতে বাধ্য করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দেওয়াল লিখন কর্মসূচির পাশাপাশি যুবসমাজ ও ছাত্ররা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ছোট ছোট পথসভাও করছেন, যাতে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
- ক্লাবের যুবসমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে কুসংস্কারবিরোধী দেওয়াল লিখন।
- রাস্তার দেওয়ালে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী স্লোগান ফুটিয়ে তোলা।
- সাধারণ মানুষের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস নিয়ে সচেতনতা ও আলোচনা তৈরি করা।
- তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সমাজ বদলের জোরালো বার্তা প্রচার করা।
দেওয়াল লিখনের মধ্য দিয়ে সমাজ বদলের শপথ
যেকোনো বড় সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ক্লাবের যুবক ও ছাত্ররা যখন নিজেদের উদ্যোগে কলম ও তুলি তুলে নেন, তখন তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এই দেওয়াল লিখন কেবল কিছু রঙের রেখা নয়, এটি কুসংস্কারের অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথ দেখানোর এক নিঃশব্দ অঙ্গীকার।
স্থানীয় প্রবীণ ও বিশিষ্টজনেরাও এই তরুণদের উদ্যোগকে সর্বান্তকরণে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দেওয়ালের এই সচেতনতামূলক বার্তাগুলি পড়ার পর সাধারণ মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন জীবন ও চিন্তাভাবনায় কুসংস্কারের স্থান দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলেই উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস। এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচার কর্মসূচি গ্রামীণ ও শহুরে জনপদে এক সুস্থ সমাজ গঠনের পথ প্রশস্ত করছে।