কামার, কুমার, তাঁতিসহ কারিগরদের জন্য বড় সুযোগ, কম সুদে ঋণ ও আধুনিক টুলকিট
কারিগরদের জন্য বিশেষ সরকারি সহায়তা
দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের PM Vishwakarma প্রকল্প চালু রয়েছে। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমার, স্বর্ণকার, ভাস্কর, মুচি, রাজমিস্ত্রি, ধোপা, দর্জি, নাপিত এবং তাঁত বা কারুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে একাধিক সুবিধা পেতে পারেন। মূল উদ্দেশ্য হল ঐতিহ্যবাহী দক্ষতাকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হল কম সুদের হারে জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ। এছাড়া প্রশিক্ষণের সময় দৈনিক স্টাইপেন্ড, আধুনিক টুলকিট কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে ছোট পরিসরে কাজ করা কারিগররা তাঁদের ব্যবসা বা পেশাকে আরও আধুনিক করার সুযোগ পেতে পারেন।
কোন কোন পেশার কারিগররা সুবিধা পাবেন?
PM Vishwakarma প্রকল্পে মোট ১৮টি ঐতিহ্যবাহী কারিগরি পেশা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাঠমিস্ত্রি, নৌকা নির্মাতা, কামার, হাতুড়ি ও টুলকিট প্রস্তুতকারক, তালাচাবি প্রস্তুতকারক, স্বর্ণকার, কুমার, ভাস্কর বা পাথরশিল্পী, মুচি বা জুতো প্রস্তুতকারক, রাজমিস্ত্রি, ঝুড়ি ও মাদুর প্রস্তুতকারক, পুতুল ও খেলনা প্রস্তুতকারক, নাপিত, মালাকার, ধোপা, দর্জি এবং মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারকের মতো পেশা রয়েছে।
- যোগ্য কারিগরদের আধুনিক টুলকিট কেনার জন্য ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা।
- বেসিক ও অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণের সুযোগ।
- প্রশিক্ষণের সময় দৈনিক ৫০০ টাকা স্টাইপেন্ড।
- প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ।
- ঋণ সময়মতো পরিশোধ করলে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ।
- ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রতি ডিজিটাল লেনদেনে ১ টাকা করে, সর্বোচ্চ মাসে ১০০টি লেনদেনের জন্য ইনসেনটিভ।
কম সুদে কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়?
PM Vishwakarma-এর আওতায় যোগ্য কারিগররা মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। এই ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করার পর দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ঋণের উপর সুবিধাভোগীর জন্য ৫ শতাংশ সুদের হার নির্ধারিত রয়েছে, আর ঋণের মেয়াদ ও কিস্তির নিয়ম প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রযোজ্য।
তবে ৩ লক্ষ টাকা কোনও এককালীন অনুদান নয়। এটি একটি ঋণ, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। দ্বিতীয় ধাপের ঋণের জন্য প্রথম ধাপের ঋণ যথাযথভাবে পরিশোধ করার মতো নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।
আধুনিক টুলকিটের জন্য ১৫ হাজার টাকা
কারিগরদের কাজের মান উন্নত করা এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রকল্পের আওতায় ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত টুলকিট ইনসেনটিভ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের নির্দিষ্ট ধাপ সম্পন্ন করার পর যোগ্য সুবিধাভোগী এই সহায়তা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে পুরনো সরঞ্জামের পরিবর্তে কাজের ধরন অনুযায়ী উন্নত টুল ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্টাইপেন্ড
PM Vishwakarma-এর আওতায় কারিগরদের শুধু টাকা বা সরঞ্জাম দেওয়াই নয়, দক্ষতা উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেসিক ট্রেনিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাডভান্সড ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণের সময় যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর ফলে কাজের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি, উন্নত পদ্ধতি ও ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে ১৮টি নির্ধারিত কারিগরি পেশার কোনও একটির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয় এবং একই পরিবারের একজন সদস্য এই সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট বর্জন-শর্তের মধ্যে থাকা আবেদনকারী প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তাই আবেদন করার আগে বর্তমান সরকারি যোগ্যতার নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
কীভাবে আবেদন করবেন?
PM Vishwakarma-এর জন্য অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যায় এবং Common Service Centre বা CSC-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব। আবেদনকারীর Aadhaar, মোবাইল নম্বর, পেশার তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরিচয় সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়। এরপর স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই ও অনুমোদনের ধাপ রয়েছে। আবেদন অনুমোদিত হলে প্রশিক্ষণ, টুলকিট এবং ঋণসহ প্রকল্পের নির্দিষ্ট সুবিধাগুলি যোগ্যতার ভিত্তিতে পাওয়া যায়।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের দক্ষতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তাঁদের বাজারের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত করা। তাই কামার, কুমার, তাঁতি, কাঠমিস্ত্রি, দর্জি-সহ নির্ধারিত পেশার কারিগররা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করলে ব্যবসা আধুনিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পেতে পারেন।
```