নতুন ব্যবসা শুরু করতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ, স্বনির্ভর হতে সরকারি সহায়তার সুযোগ

নতুন ব্যবসা শুরু করতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ, স্বনির্ভর হতে সরকারি সহায়তার সুযোগ

নতুন ব্যবসা শুরু করতে ঋণের সুযোগ

নিজের ব্যবসা শুরু করে স্বনির্ভর হতে চান এমন উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে নতুন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (PMMY) গুরুত্বপূর্ণ একটি ঋণ ব্যবস্থা। যোগ্য আবেদনকারীরা ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী জামানতবিহীন ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ৫ লক্ষ টাকা নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক নতুন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয় না; ঋণের পরিমাণ প্রকল্পের ধরন, ব্যবসার প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের উপর নির্ভর করে।

PMMY-এর আওতায় ব্যবসার পর্যায় অনুযায়ী Shishu, Kishor, Tarun এবং Tarun Plus—এই শ্রেণিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে ছোট অঙ্কের ঋণ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য তুলনামূলক বড় ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে ব্যবসা শুরু করার আগে কোন শ্রেণির ঋণ প্রযোজ্য, তা বুঝে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।

মুদ্রা যোজনায় কত টাকা পর্যন্ত ঋণ?

বর্তমানে PMMY-এর চারটি ঋণ শ্রেণি রয়েছে। Shishu শ্রেণিতে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত, Kishor শ্রেণিতে ৫০,০০০ টাকার বেশি থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং Tarun শ্রেণিতে ৫ লক্ষ টাকার বেশি থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া Tarun শ্রেণির পূর্ববর্তী ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করা যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য Tarun Plus শ্রেণিতে ১০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ রয়েছে।

  • Shishu: ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ।
  • Kishor: ৫০,০০০ টাকার বেশি থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • Tarun: ৫ লক্ষ টাকার বেশি থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • Tarun Plus: যোগ্য ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • ঋণ ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।

৫ লক্ষ টাকার ঋণ কারা পেতে পারেন?

Kishor শ্রেণির আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতার নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিষেবা, উৎপাদন, দোকান, পরিবহণ, খাদ্য সংক্রান্ত কাজ, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য যোগ্য মাইক্রো ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ নেওয়া যেতে পারে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ও প্রকল্পের বিবরণ জমা দিতে হতে পারে।

PMMY মূলত অ-কৃষি আয়মূলক ক্ষুদ্র উদ্যোগের জন্য চালু হলেও নির্দিষ্ট কিছু কৃষি-সম্পর্কিত কার্যকলাপও এর আওতায় আসতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া হবে, সেটি প্রকল্পের আওতায় পড়ে কি না তা ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ঋণদাতার কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জামানত দিতে হবে কি?

PMMY-এর আওতায় সাধারণভাবে জামানত বা collateral security চাওয়ার বিধান নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আবেদনকারীর ঋণ নিশ্চিতভাবে অনুমোদিত হবে। আবেদনকারীর ব্যবসার পরিকল্পনা, ঋণের প্রয়োজন, নথিপত্র, পূর্বের আর্থিক তথ্য এবং ঋণদাতার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন যাচাই করা হয়। অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

কীভাবে আবেদন করবেন?

PMMY-এর ঋণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, Regional Rural Bank, Small Finance Bank, Micro Finance Institution এবং অন্যান্য অনুমোদিত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনেও আবেদন শুরু করা সম্ভব। আবেদন করার সময় পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য, ব্যবসার বিবরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে।

ব্যবসার জন্য কত টাকা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। শুধুমাত্র সর্বোচ্চ সীমা দেখে বড় ঋণের জন্য আবেদন না করে ব্যবসার প্রকৃত খরচ, মাসিক আয় এবং কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা হিসাব করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে ঋণের বোঝা সামলানো সহজ হতে পারে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কীভাবে কাজে আসতে পারে?

নিজের দোকান, ছোট উৎপাদন ইউনিট, পরিষেবা ব্যবসা বা অন্যান্য মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ শুরু করতে প্রাথমিক মূলধনের প্রয়োজন হয়। সেই অর্থের ঘাটতি পূরণে সরকারি ঋণ প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মুদ্রা যোজনার বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের সুযোগ থাকায় ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে ধীরে ধীরে তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা সম্ভব।

তবে ‘৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন’ মানেই সরকার সরাসরি প্রত্যেক নতুন ব্যবসায়ীকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দেবে—এমনটা নয়। এটি একটি ঋণসুবিধা, যার টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে সুদের হার, প্রসেসিং চার্জ, কিস্তি, পরিশোধের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট ঋণদাতার শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

আবেদনের আগে সতর্ক থাকুন

সরকারি প্রকল্পের নামে অনেক সময় ভুয়ো ঋণ বা দ্রুত টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। তাই কোনও এজেন্টকে অযথা টাকা না দিয়ে সরাসরি অনুমোদিত ব্যাংক বা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করা নিরাপদ। নিজের ব্যবসার প্রয়োজন ও পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে সঠিক ঋণ শ্রেণি বেছে নিলেই সরকারি ঋণ সহায়তা নতুন উদ্যোক্তাদের স্বনির্ভর হওয়ার পথে কার্যকর সহায়তা হতে পারে।

```