ডিপফেক ও সাইবার অপরাধ রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র

ডিপফেক ও সাইবার অপরাধ রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র

ডিজিটাল দুনিয়ায় সুরক্ষার চাবিকাঠি, ডিপফেক ও সাইবার অপরাধ রুখতে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি লাফিয়ে বাড়ছে ডিপফেক (Deepfake) ও সাইবার অপরাধের মতো ঘটনাগুলি। এই ধরনের মারাত্মক প্রতারণা এবং অপপ্রচার রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের সমস্ত প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং মধ্যবর্তী ডিজিটাল সংস্থাগুলির জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি কোনো ফেক ছবি বা ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে মাধ্যমগুলিকে।

সাম্প্রতিক কালে একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের জেরে চরম হেনস্থা ও সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট আপলোড হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা মুছে ফেলতে হবে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই নিয়ম পালন না করলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ডিপফেক এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে দমন করতে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য কঠোর নির্দেশিকা ও সময়সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক কনটেন্ট ছড়ানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
  • কোনো আপত্তিকর বা ফেক পোস্ট রিপোর্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মগুলিকে।
  • সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
  • নিয়ম অমান্যকারী ডিজিটাল মধ্যবর্তী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্র।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো গঠনের উদ্যোগ

সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে এই ধরনের কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি ছিল। আগামী দিনে এই নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি অনেক বেশি সুরক্ষিত হবে এবং ভুয়ো তথ্যের অপপ্রচার অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।