লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের, কর্মক্ষেত্রে সমস্ত মহিলার জন্য বাধ্যতামূলক পেইড পিরিয়ড লিভের নির্দেশ
কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের
দেশের কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। কর্মক্ষেত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মহিলা কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক 'পেইড পিরিয়ড লিভ' বা ঋতুস্রাবকালীন ছুটির নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের এই রায়ের ফলে দেশের কোটি কোটি কর্মরতা নারী বিশেষ সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বেসরকারি ও কর্পোরেট সংস্থায় মহিলা কর্মীদের ঋতুস্রাবকালীন ছুটির দাবি জোরালো হচ্ছিল। কিন্তু জাতীয় স্তরে কোনো নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক আইন না থাকায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন অধিকাংশ নারী। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, জৈবিক চাহিদার ভিত্তিতে নারীদের কাজের জায়গায় বাড়তি সুবিধা ও সম্মান দেওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল কর্তব্য। আগামী দিনের মধ্যে সমস্ত সংস্থাকে এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ও মানসিক চাপ কমাতে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মহিলা কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক পেইড পিরিয়ড লিভ বা ঋতুস্রাবকালীন ছুটির নির্দেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
- দেশের সমস্ত কর্মক্ষেত্রে মহিলা কর্মীদের জন্য সবেতন ঋতুস্রাবকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও সামাজিক ট্যাবু দূর করতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত সংস্থাকে আদালতের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নারীদের স্বাস্থ্যগত অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটিকে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ও সমাজব্যবস্থায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব
শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর বিভিন্ন নারী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী এবং কর্পোরেট মহল একে সাধুবাদ জানিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং তাদের শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। আগামী দিনে এই নিয়ম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের কর্মসংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক ও দূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।