নতুন এইচ-১বি (H-1B) কর্মী ভিসার ফি একলাফে ১ লক্ষ ডলারের বেশি করার প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসনের
এইচ-১বি ভিসার ফি আকাশছোঁয়া করার প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসনের
বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি (H-1B) ভিসার ফি একলাফে ১ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও (প্রায় ৮৩ লক্ষ ভারতীয় টাকা) বেশি করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব এনেছে মার্কিন প্রশাসন। দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর (DHS) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে, যা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
আমেরিকায় কর্মরত বিশেষত ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ ও আইটি (IT) বিশেষজ্ঞদের ওপর এই প্রস্তাবিত আইনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সংস্থাগুলি যাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে দেশের নাগরিকদের নিয়োগে বেশি উৎসাহিত হয়, সেই লক্ষ্যেই মূলত ফি বৃদ্ধির এই কঠোর অবস্থান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশিকার প্রধান দিকগুলি:
- প্রতিটি নতুন এইচ-১বি আবেদনের ফি বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলারের বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব।
- আমেরিকান সংস্থাগুলির বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের নিয়োগ ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি করার পরোক্ষ কৌশল।
- প্রস্তাবটির ওপর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংস্থা ও বিভিন্ন ট্রেড বডির কড়া নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া।
- ভারতের আইটি শিল্প ক্ষেত্র এবং আমেরিকামুখী দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশঙ্কা।
ভারতীয় প্রযুক্তি ক্ষেত্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গভীর দুশ্চিন্তা
প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় আইটি পেশাদার ও প্রকৌশলী এই এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে কাজের সুযোগ পান। ভিসা ফি যদি এই হারে বৃদ্ধি পায়, তবে ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রোর মতো বৃহৎ ভারতীয় আইটি জায়ান্টসহ বিশ্বমানের আমেরিকান প্রযুক্তি সংস্থাগুলি ভারত থেকে কর্মী নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই সীমিত করতে বাধ্য হবে।
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে সেদেশের একাধিক উদ্যোক্তা গোষ্ঠী ও টেক কর্পোরেশন। তাঁদের মতে, এত চড়া ফি ধার্য করা হলে আমেরিকার বিশ্বমানের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা আহরণের পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রস্তাবটি এখন আইন বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পর্যালোচনার অধীন রয়েছে।