পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি এবং এর উচ্চতা কত? জানুন বিস্তারিত তথ্য
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি এবং এর উচ্চতা কত?
পৃথিবীর বিশাল ভূপ্রকৃতির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো পর্বতমালার মধ্যে উচ্চতার দিক থেকে কোনটি বিশ্বের সর্বোচ্চ এবং এর সঠিক উচ্চতা কত, এই প্রশ্ন মানব সভ্যতার মনে চিরকাল এক দারুণ কৌতূহল জাগিয়ে এসেছে; হিমালয় পর্বতমালার এই অবিসংবাদিত চূড়ার রহস্য একদিনে উন্মোচিত হয়নি। মানুষের দীর্ঘদিনের জিওডেসি, টপোগ্রাফিক সার্ভে এবং আধুনিক ভূগোলের অভূতপূর্ব অগ্রগতির হাত ধরেই মাউন্ট এভারেস্টের এই অতুলনীয় উচ্চতা বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট হয়েছিল। বর্তমান যুগে আল্পাইন ক্লাইম্বিং, স্যাটেলাইট ম্যাপিং এবং ভূ-সংস্থানিক গবেষণার প্রতিটি ক্ষেত্রে এই শৃঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতির এই অসামান্য রূপ মানব সভ্যতাকে আমাদের গ্রহের উচ্চতম বিন্দু এবং টেকটনিক প্লেটের মহাশক্তিকে পরিচয় করিয়েছে। এর নেপথ্যে কাজ করেছে দীর্ঘ দশকের নিরলস ট্র্যাডিশনাল ট্রায়াঙ্গুলেশন (Triangulation) এবং আধুনিক জিপিএস (GPS) পরিমাপ গবেষণা।
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি এবং এর উচ্চতা কত তা নির্ধারণের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ ভারতের ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভের হাত দিয়ে, যার মাধ্যমে হিমালয়ের ‘পিক ১৫’ বা বর্তমানের এভারেস্টের সঠিক উচ্চতা প্রথম বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট হয়েছিল। আধুনিক বিজ্ঞান ও নেপাল-চীনের যৌথ পরিমাপ অনুযায়ী, এর মূল বিবরণটি হলো: ভৌগোলিক ও ভূ-সংস্থানিক তথ্য অনুযায়ী এশিয়া মহাদেশের হিমালয় পর্বতমালায় নেপাল ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত 'মাউন্ট এভারেস্ট' (Mount Everest) হলো পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ, যার সদ্য সংশোধিত ও স্বীকৃত অফিসিয়াল উচ্চতা হলো ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (বা প্রায় ২৯,০৩১ ফুট); এই বিশাল পর্বতটি এশিয়াটিক এবং ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে কোটি কোটি বছর ধরে ধীরে ধীরে উপরে উঠে আজ এই অনন্য উচ্চতা অর্জন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে নেপাল ও চীন সরকারের যৌথ ঘোষণায় মাউন্ট এভারেস্টের আধুনিক ও নির্ভুল উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হয়েছে।
- মাউন্ট এভারেস্টের স্থানীয় নেপালি নাম 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতি নাম 'চোলোমাংমা', যার অর্থ পৃথিবীর দেবী মাতা।
- এই পর্বতমালার চূড়ায় বাতাস অত্যন্ত পাতলা এবং অক্সিজেনের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ায় একে 'ডেথ জোন' বলা হয়।
- ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের তেনজিং নোরগে শেরপা প্রথম সফলভাবে এই শৃঙ্গ জয় করেছিলেন।
আধুনিক ভূগোল ও পর্বত গবেষণার প্রভাব
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সেই আদি সময় থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক জিপিএস স্যাটেলাইট ও টেকটনিক্স স্টাডি—প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের ভৌগোলিক ও ভূ-তাত্ত্বিক জ্ঞানের দিগন্ত আজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়েছে। পর্বতশৃঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হিমবাহ গলন এবং চরম আবহাওয়ায় মানুষের শারীরিক সহ্যক্ষমতা অনুধাবনের ক্ষেত্রে এই গবেষণার অবদান সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে বিশ্বমানের ভৌগোলিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানজগতে গভীর বিপ্লব ঘটিয়েছিল। প্রতিদিনের ভূগোল, ভূতত্ত্ব কিংবা পরিবেশ বিজ্ঞান—সবক্ষেত্রেই এর গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
সংক্ষেপে, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি এবং এর উচ্চতা কত তার সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য আবিষ্কার আধুনিক ভূগোল ও ভূতত্ত্ববিদ্যার নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়ে আমাদের গ্রহের উচ্চতম শিখরকে নতুনভাবে বুঝতে শিখিয়েছে। বিজ্ঞানীদের সেই সুদীর্ঘ সাধনা ও ভৌগোলিক গবেষণার ইতিহাস ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আগামী দিনের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণের উন্নয়নেও এই পর্বত গবেষণা এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে।