চোখ বন্ধ করলেও আলো অনুভব করা যায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ
চোখ বন্ধ করলেও আলো অনুভব করা যায় কেন? জেনে নিন বৈজ্ঞানিক কারণ
উজ্জ্বল রোদের মধ্যে বা তীব্র আলোর সামনে চোখ বন্ধ করলেই চোখের পাতার ভেতর দিয়ে অদ্ভুত এক লালচে বা উজ্জ্বল আভা আমাদের চোখে ধরা পড়ে—চোখ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পরেও আমরা কেন আলোর উপস্থিতি অনুভব করতে পারি এবং এর পেছনে শরীরের কোন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে, এই প্রশ্ন মানব সভ্যতার মনে চিরকাল এক দারুণ কৌতূহল জাগিয়ে এসেছে; মানব শরীরের এই দৃষ্টির রহস্য একদিনে উন্মোচিত হয়নি। মানুষের দীর্ঘদিনের অপটিক্যাল ফিজিক্স, রেটিনাল বায়োলজি এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির হাত ধরেই চোখের পাতার স্বচ্ছতা ও আলো অনুভবের এই নিখুঁত প্রক্রিয়া বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট হয়েছিল। বর্তমান যুগে অপথাল্মোলজি, নিউরোবায়োলজি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই ফোটোরিসেপ্টর অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতির এই অসামান্য রূপ মানব সভ্যতাকে আমাদের চোখের পর্দা ও আলোর মিথস্ক্রিয়ার সাথে পরিচয় করিয়েছে। এর নেপথ্যে কাজ করেছে দীর্ঘ দশকের নিরলস আইলিড ট্রান্স্লুসেন্সি (Eyelid Translucency) এবং ফসফেন (Phosphene) গবেষণা।
চোখ বন্ধ করলেও আলো অনুভব করা যায় কেন তার সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া আবিষ্কারের ইতিহাস শুরু হয়েছিল আধুনিক পদার্থবিদ্যা এবং শারীরবিদ্যার গবেষণার হাত দিয়ে, যার মাধ্যমে চোখের পাতার মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশের ক্ষমতা প্রথম নিখুঁতভাবে মাপা সম্ভব হয়েছিল। আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী, এর মূল প্রক্রিয়াটি হলো: আমাদের চোখের পাতাগুলো অত্যন্ত পাতলা এবং রক্তনালীতে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাইরের প্রচণ্ড উজ্জ্বল রোদ বা আলো সহজেই পাতার ত্বক ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, এবং রেটিনার রড ও কোন কোষগুলো সেই ফোটন কণাগুলোকে শনাক্ত করে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়; এছাড়া চোখ বন্ধ করে চাপ দিলে বা ঘষলে চোখের ভেতরের কোষগুলো যান্ত্রিক উদ্দীপনার কারণে যে আলো বা প্যাটার্ন দেখে, তাকে ফসফেন বলা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আধুনিক অপথাল্মোলজিক্যাল ডেটা অনুযায়ী মানুষের চোখের পাতা আলোর সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধক নয় এবং বাইরের তীব্র আলো পাতাকে ভেদ করে রেটিনায় পৌঁছানোর পাশাপাশি চোখের ভেতরে স্নায়ুর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনার ফলেও আমরা এই আলোর অনুভূতি পেয়ে থাকি।
- চোখের পাতার চামড়া ও টিস্যু তুলনামূলকভাবে পাতলা হওয়ায় তীব্র রোদ বা কৃত্রিম আলো সহজেই তা ভেদ করে চোখের ভেতরে প্রবেশ করে।
- রেটিনায় উপস্থিত রড ও কোন কোষগুলো আলোর ফোটন কণা শোষণ করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে আলো বা আভার সংকেত পাঠায়।
- চোখের ওপর হাত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে রেটিনার ওপর তৈরি হওয়া যান্ত্রিক চাপের কারণেও মগজে আলোর ঝলক বা ফসফেন তৈরি হয়।
দৃষ্টি বিজ্ঞান ও চিকিৎসা গবেষণার প্রভাব
দৃষ্টি বিজ্ঞান ও অপথাল্মোলজি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সেই আদি সময় থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক লেজার সার্জারি ও আই কেয়ার—প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানের দিগন্ত আজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়েছে। চোখের রোগ নির্ণয়, রেটিনার কার্যকারিতা অনুধাবন এবং দৃষ্টি শক্তির সংবেদনশীলতা বুঝতে এই গবেষণার অবদান সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানজগতে গভীর বিপ্লব ঘটিয়েছিল। প্রতিদিনের পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান কিংবা বায়োলজি—সবক্ষেত্রেই এর গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
সংক্ষেপে, চোখ বন্ধ করলেও আলো অনুভব করা যায় কেন তার সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য আবিষ্কার আধুনিক পদার্থবিদ্যা ও বায়োলোজির নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়ে আমাদের মানব শরীরের এই দৃষ্টি ইন্দ্রিয়কে নতুনভাবে বুঝতে শিখিয়েছে। বিজ্ঞানীদের সেই সুদীর্ঘ সাধনা ও চিকিৎসা গবেষণার ইতিহাস ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আগামী দিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নেও এই অপথাল্মোলজিক্যাল রিসার্চ এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে।