কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যু, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন পুলিশের
হোটেলে ভয়াবহ আগুন, তদন্তে বিশেষ দল
মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। ১৯ আগস্ট ভোররাতে পাঁচতলা একটি ভবনে আগুন লাগে। ওই ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিশালা চলত। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অধীনে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল পরিচালনার অনুমতি ও সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা। প্রাথমিক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ত্রুটি-সহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিউ মার্কেট এলাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনে ভোররাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায় বিভিন্ন অংশ। সরু চলাচলের জায়গা এবং পর্যাপ্ত জরুরি বেরোনোর ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে ভিতরে থাকা মানুষদের নিরাপদে বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং বহু মানুষকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ভবনটি খালি করে সিল করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
- ১৯ আগস্ট ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটে আগুন লাগে।
- অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- মৃতদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিলেন।
- প্রায় ৮০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
- ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।
- অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেল ও অতিথিশালাগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমন পথ ছিল কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে ওই ভবনে একাধিক হোটেল কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেগুলির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর কলকাতা পুরসভা ও দমকল বিভাগের তরফেও শহরের হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়ম মেনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে কি না, তা যাচাই করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তে গাফিলতির দায় নির্ধারণের চেষ্টা
বিশেষ তদন্তকারী দল আগুন লাগার কারণের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আগে ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী অবস্থায় ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। কোনও নিয়ম ভঙ্গ, অনুমোদনের ঘাটতি বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণের চেষ্টা হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
নয়জনের প্রাণহানির এই ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এসেছে। SIT-এর তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।