যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ABVP-বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ, তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের কমিটি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ABVP-বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ, তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের কমিটি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষ, আহত একাধিক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সংসদ FETSU-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। ২০ আগস্ট ভোরে আরএসএস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় দুই পক্ষেরই কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসে অশান্তির অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

FETSU-এর সাধারণ সভাকে ঘিরে কীভাবে শুরু অশান্তি?

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সংসদ FETSU-এর সাধারণ সভা চলাকালীন ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষের দিকে গড়ায়। ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার অভিযোগ করেছে।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এক পক্ষের দাবি, তাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে, অন্য পক্ষ আবার বহিরাগত এনে অশান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছে। ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে সংঘর্ষের সঠিক সূত্রপাত এবং প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান: ক্যাম্পাসে হিংসা ও ভাঙচুর কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক

সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনায় শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রতীক বা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রাক্তনীদের একাংশের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির ক্ষতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন এবং কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকটি ক্ষতিগ্রস্ত হল, সেই বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের অভ্যন্তরীণ কমিটি

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কমিটির দায়িত্ব হবে সংঘর্ষের কারণ, ক্যাম্পাসে অশান্তির সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখা। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা সম্পর্কেও কমিটি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ায় পুলিশি তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে পুলিশ নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করতে পারে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত তদন্ত পৃথক প্রক্রিয়ায় এগোতে পারে।

  • ২০ আগস্ট ভোরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
  • FETSU-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে।
  • ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে।
  • দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগত আনার অভিযোগ করেছে।
  • সংঘর্ষে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে ভাঙচুরে ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
  • ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপাচার্যের নিন্দা, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এত বড় সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হতে পারে এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকটি পর্যালোচনা করা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি এবং মতাদর্শগত মতভেদের কারণে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য এখন ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা।

তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে সংঘর্ষের পূর্ণ চিত্র

বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক পক্ষের ভিন্ন দাবি রয়েছে। বহিরাগত আনা, হামলার সূত্রপাত এবং ভাঙচুরের জন্য কারা দায়ী—এই সব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দিকে। তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও ত্রুটি, ব্যক্তিগত দায় বা সংগঠনগত ভূমিকার প্রমাণ সামনে এলে বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কী তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।