অল্প বয়সে সঞ্চয় শুরু করলে ভবিষ্যতে কত লাভ হয়? জানুন সময়ের সঙ্গে টাকার বৃদ্ধির হিসাব
অল্প বয়সে সঞ্চয় শুরু করার সুবিধা
সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে শুধু কত টাকা জমাচ্ছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কখন থেকে শুরু করছেন সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অল্প বয়সে সঞ্চয় শুরু করলে হাতে দীর্ঘ সময় থাকে। সেই সময়ের মধ্যে নিয়মিত জমা করা অর্থের পাশাপাশি অর্জিত সুদ বা বিনিয়োগের রিটার্নও ভবিষ্যতে আরও অর্থ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ধরা যাক, কেউ প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি বিনিয়োগে রাখছেন। প্রকৃত রিটার্ন কত হবে তা নির্ভর করবে কোন আর্থিক পণ্য বেছে নেওয়া হয়েছে এবং তার রিটার্নের ওপর। তাই নির্দিষ্ট রিটার্নকে নিশ্চিত ধরে ভবিষ্যতের টাকা হিসাব করা উচিত নয়। তবে চক্রবৃদ্ধি হারের প্রভাব বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেখা যেতে পারে।
সময় যত বেশি, চক্রবৃদ্ধির প্রভাব তত বেশি
চক্রবৃদ্ধি বা Compound Interest-এর ক্ষেত্রে আগের সময়ে পাওয়া সুদ বা রিটার্ন পরবর্তী সময়ে মূল অর্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও রিটার্ন তৈরির সুযোগ পায়। ফলে একই পরিমাণ টাকা নিয়মিত জমা করলেও বেশি সময় ধরে টাকা রাখা হলে সম্ভাব্য বৃদ্ধির সুযোগ সাধারণত বেশি থাকে।
- অল্প বয়সে শুরু করলে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করার সুযোগ পাওয়া যায়।
- নিয়মিত ছোট অঙ্কের সঞ্চয়ও দীর্ঘ সময়ে বড় তহবিল তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
- চক্রবৃদ্ধির ফলে আগের অর্জিত রিটার্ন ভবিষ্যতের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
- শুরু করার সময় পিছিয়ে গেলে একই লক্ষ্য পূরণে পরবর্তীতে বেশি টাকা জমাতে হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস আর্থিক শৃঙ্খলা তৈরি করে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, একজন ২৫ বছর বয়সে প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ শুরু করলেন। ২০ বছরে নিজের পকেট থেকে মোট জমা হবে ৪,৮০,০০০ টাকা। যদি সেই অর্থ এমন একটি বিনিয়োগে রাখা হয় যেখানে গড় বার্ষিক রিটার্ন ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে এবং রিটার্ন মাসিকভাবে চক্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাহলে হিসাব অনুযায়ী মেয়াদ শেষে তহবিল প্রায় ১১.৮ লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এখানে প্রায় ৪.৮ লাখ টাকা নিজের জমা এবং বাকিটা সম্ভাব্য রিটার্ন থেকে আসতে পারে।
একই মাসিক ২,০০০ টাকা ১০ বছর পরে শুরু করে ১০ বছর রাখলে নিজের জমা হবে ২.৪ লাখ টাকা। একই ৮ শতাংশ অনুমান ব্যবহার করলে তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৩.৬৬ লাখ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ একই মাসিক সঞ্চয় হলেও বেশি সময় পাওয়া গেলে চক্রবৃদ্ধির প্রভাবের জন্য সম্ভাব্য তহবিলের পার্থক্য তৈরি হয়।
শুধু বেশি টাকা নয়, বেশি সময়ও গুরুত্বপূর্ণ
অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতের জন্য বড় অঙ্কের টাকা না জমাতে পারলে সঞ্চয় শুরু করার কোনও অর্থ নেই। বাস্তবে নিয়মিত ছোট অঙ্ক দিয়ে শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
সঞ্চয়ের লক্ষ্য আগে ঠিক করুন
অল্প বয়সে সঞ্চয় শুরু করার আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করা দরকার। জরুরি তহবিল, উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা, অবসর বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন—প্রতিটি লক্ষ্য অনুযায়ী সময় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ আলাদা হতে পারে। সেই অনুযায়ী সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ: ৮ শতাংশের উদাহরণটি শুধুমাত্র চক্রবৃদ্ধির হিসাব বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও বিনিয়োগে নির্দিষ্ট রিটার্ন নিশ্চিত নয়। বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের ধরন, সময়কাল, বাজারের পরিস্থিতি, কর এবং অন্যান্য খরচের ওপর। তাই অল্প বয়সে শুরু করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সময়কে কাজে লাগানোর সুযোগ পাওয়া।
সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তাই বড় অঙ্ক দিয়ে শুরু করার অপেক্ষা না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট অঙ্ক দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। নিয়মিত সঞ্চয়, সময় এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার সমন্বয় ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।