এক চার্জে চলবে তিন দিন! ৭০০০mAh ব্যাটারি নিয়ে Motorola-র নতুন Moto G Max

এক চার্জে চলবে তিন দিন! ৭০০০mAh ব্যাটারি নিয়ে Motorola-র নতুন Moto G Max

৭০০০mAh ব্যাটারি নিয়ে Motorola-র নতুন ফোন

বড় ব্যাটারির স্মার্টফোনের বাজারে নতুন মডেল নিয়ে এসেছে Motorola। সংস্থার Moto G Max ফোনে দেওয়া হয়েছে ৭০০০mAh Silicon-Carbon ব্যাটারি। Motorola-র দাবি, সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফোনটি একবার চার্জে তিন দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারে। ফলে বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলা কমাতে চান এমন ব্যবহারকারীদের নজর কাড়তে পারে এই ফোন।

ভারতে Moto G Max লঞ্চ হয়েছে ১৪ আগস্ট ২০২৬। ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ২৭,৯৯৯ টাকা। বড় ব্যাটারির পাশাপাশি এতে রয়েছে ৩০W চার্জিং, ৫জি-সমর্থিত Snapdragon প্রসেসর, ১২০Hz ডিসপ্লে এবং ৫০MP Sony LYT-600 প্রাইমারি ক্যামেরা।

তিন দিন ব্যাটারি ব্যাকআপের দাবি

Moto G Max-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ৭০০০mAh ব্যাটারি। Motorola জানিয়েছে, সাধারণ ব্যবহারের পরিস্থিতিতে এই ব্যাটারি একবার চার্জে তিন দিন পর্যন্ত চলতে পারে। তবে ব্যাটারির প্রকৃত ব্যাকআপ ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। বেশি গেমিং, দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখা, ক্যামেরা ব্যবহার বা দুর্বল নেটওয়ার্কে ফোন চালালে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে।

ফোনটিতে Silicon-Carbon ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত ব্যাটারি প্রযুক্তির তুলনায় এই ধরনের ব্যাটারি ডিজাইনে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ থাকে। Motorola-এর নতুন মডেলে বড় ব্যাটারির সঙ্গে ফোনের দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্যতা বজায় রাখার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।

৩০W চার্জিং সাপোর্ট

বড় ব্যাটারির সঙ্গে Moto G Max-এ রয়েছে ৩০W চার্জিং সাপোর্ট। অর্থাৎ ফোনের ৭০০০mAh ব্যাটারি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেলে সেটি দ্রুত চার্জ করার সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে চার্জ হতে ঠিক কত সময় লাগবে তা চার্জারের ক্ষমতা, তাপমাত্রা, ব্যাটারির অবস্থা এবং ব্যবহারের সময়ের মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করতে পারে।

ডিসপ্লেতেও বড় স্ক্রিন

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭২ ইঞ্চির Full HD+ IPS LCD ডিসপ্লে। স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট ১২০Hz। ফলে ওয়েব ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া, অ্যাপ ব্যবহার ও অন্যান্য সাধারণ কাজের সময় স্ক্রলিং তুলনামূলক মসৃণ হওয়ার কথা। ডিসপ্লেটি বড় হওয়ায় ভিডিও দেখা বা দীর্ঘ সময় কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

পারফরম্যান্সে Snapdragon 6s Gen 4

Moto G Max-এ Qualcomm Snapdragon 6s Gen 4 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ৬GB LPDDR5X RAM এবং ১২৮GB UFS 3.1 স্টোরেজ। ৫জি কানেক্টিভিটি সমর্থনের কারণে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীরা দ্রুত মোবাইল ডেটা পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন। ফোনটি Android 16 অপারেটিং সিস্টেমে বাজারে এসেছে।

  • মডেল: Moto G Max
  • ভারতে লঞ্চ: ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • দাম: ২৭,৯৯৯ টাকা
  • ব্যাটারি: ৭০০০mAh Silicon-Carbon
  • চার্জিং: ৩০W
  • ডিসপ্লে: ৬.৭২ ইঞ্চি Full HD+, ১২০Hz
  • প্রসেসর: Qualcomm Snapdragon 6s Gen 4
  • RAM: ৬GB LPDDR5X
  • স্টোরেজ: ১২৮GB UFS 3.1
  • প্রাইমারি ক্যামেরা: ৫০MP Sony LYT-600
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ৩২MP
  • অপারেটিং সিস্টেম: Android 16

ক্যামেরাতেও রয়েছে ৫০MP সেন্সর

ব্যাটারি ফোনটির প্রধান আকর্ষণ হলেও ক্যামেরার দিক থেকেও Moto G Max পিছিয়ে নেই। পিছনে রয়েছে ৫০MP Sony LYT-600 প্রাইমারি ক্যামেরা এবং ৮MP আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। সামনে দেওয়া হয়েছে ৩২MP সেলফি ক্যামেরা। ফলে দৈনন্দিন ছবি, ভিডিও কল, সেলফি এবং বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফটোগ্রাফির জন্য একাধিক ক্যামেরা অপশন পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাটারি-কেন্দ্রিক ব্যবহারকারীদের জন্য কেমন?

যাঁরা দিনের মধ্যে একাধিকবার ফোন চার্জ করতে চান না, তাঁদের কাছে Moto G Max আকর্ষণীয় হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, নিয়মিত ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করা ব্যক্তিদের জন্য ৭০০০mAh ব্যাটারি সুবিধা দিতে পারে। তবে “তিন দিন” ব্যাকআপ Motorola-র নির্দিষ্ট ব্যবহারের দাবির ভিত্তিতে বলা হয়েছে; প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

২৭,৯৯৯ টাকায় কী কী মিলছে?

২৭,৯৯৯ টাকা দামের Moto G Max-এ বড় ব্যাটারির সঙ্গে ১২০Hz ডিসপ্লে, ৫জি প্রসেসর, ৫০MP Sony ক্যামেরা এবং Android 16 দেওয়া হয়েছে। Motorola দুইটি Android OS আপগ্রেড এবং তিন বছরের সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেও ফোনটি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শেষ কথা

৭০০০mAh ব্যাটারি এবং তিন দিন পর্যন্ত ব্যাকআপের দাবি Moto G Max-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এর সঙ্গে ৩০W চার্জিং, ১২০Hz ডিসপ্লে, Snapdragon 6s Gen 4 এবং ৫০MP Sony ক্যামেরা থাকায় ফোনটি মাঝারি বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ হিসেবে হাজির হয়েছে। তবে কেনার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ব্যাটারি, ক্যামেরা ও পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একই দামের অন্যান্য ৫জি ফোনের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।