Honda H’ness CB350-এর দাম কত? ২০২৬ সালে মাইলেজ, ফিচার ও পারফরম্যান্স একনজরে
Honda H’ness CB350-এর ২০২৬ সালের দাম
Honda H’ness CB350 350cc সেগমেন্টের একটি আধুনিক ক্লাসিক মোটরসাইকেল। রেট্রো ডিজাইনের সঙ্গে শক্তিশালী ইঞ্জিন, আরামদায়ক রাইডিং পজিশন এবং আধুনিক কানেক্টিভিটি ফিচারের সমন্বয় এই বাইকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের বাজারতথ্য অনুযায়ী Honda H’ness CB350-এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.৯৩ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১.৯৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যায়।
বর্তমানে Honda H’ness CB350 তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়—DLX, DLX Pro এবং DLX Pro Chrome। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দাম এবং কিছু ফিচারে পার্থক্য রয়েছে। অন-রোড দামের ক্ষেত্রে RTO, বিমা এবং অন্যান্য স্থানীয় চার্জ যুক্ত হওয়ায় শহরভেদে চূড়ান্ত দাম আলাদা হতে পারে। তাই কেনার আগে স্থানীয় Honda BigWing ডিলারের কাছ থেকে বর্তমান অন-রোড দাম জেনে নেওয়া উচিত।
Honda H’ness CB350-এর ভ্যারিয়েন্ট ও দাম
- H’ness CB350 DLX: এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.৯৩ লক্ষ টাকা।
- H’ness CB350 DLX Pro: এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.৯৬ লক্ষ টাকা।
- H’ness CB350 DLX Pro Chrome: এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.৯৮ লক্ষ টাকা।
ভ্যারিয়েন্টের দাম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন অফার, কর এবং ডিলার-নির্ভর চার্জের কারণে চূড়ান্ত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই উপরের দামকে বর্তমান বাজারের আনুমানিক এক্স-শোরুম মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা ভালো।
Honda H’ness CB350-এর ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
Honda H’ness CB350-এ রয়েছে ৩৪৮.৩৬cc সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন প্রায় ২১ PS শক্তি এবং ৩০ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স রয়েছে। ৩০ Nm টর্ক ৩০০০ rpm-এ পাওয়া যায়, ফলে কম ও মাঝারি গতিতে পর্যাপ্ত টান দেওয়ার ক্ষমতা বাইকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
ইঞ্জিনের সঙ্গে Assist ও Slipper Clutch দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গিয়ার পরিবর্তনের সময় ক্লাচ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ হয় এবং দ্রুত ডাউনশিফটের সময় পিছনের চাকা লক বা স্কিপ করার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। Honda Selectable Torque Control বা HSTC-ও রয়েছে, যা পিছনের চাকার অতিরিক্ত স্লিপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
Honda H’ness CB350-এর মাইলেজ কত?
Honda H’ness CB350-এর মাইলেজ নিয়ে বিভিন্ন উৎসে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। বাজারতথ্যে প্রায় ৪৫.৮ kmpl পর্যন্ত দাবি পাওয়া যায়, আবার বাস্তব ব্যবহারে রাস্তা, ট্রাফিক, গতি এবং রাইডিং স্টাইল অনুযায়ী মাইলেজ কম-বেশি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যাকে সব ধরনের ব্যবহারের নিশ্চিত মাইলেজ হিসেবে ধরা উচিত নয়।
৩৫০cc ইঞ্জিন হওয়ায় H’ness CB350 মূলত এমন ক্রেতাদের জন্য তৈরি, যারা কমিউটার বাইকের তুলনায় বেশি টর্ক এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্ব ও হাইওয়ে রাইডের জন্যও এর ইঞ্জিন ও রাইডিং সেটআপ ব্যবহার করা যায়।
Honda H’ness CB350-এর গুরুত্বপূর্ণ ফিচার
- ৩৪৮.৩৬cc সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন
- প্রায় ২১ PS সর্বোচ্চ শক্তি
- ৩০ Nm সর্বোচ্চ টর্ক
- ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স
- Assist ও Slipper Clutch
- Honda Selectable Torque Control বা HSTC
- Honda RoadSync কানেক্টিভিটি
- অ্যানালগ-ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার
- ডুয়াল-চ্যানেল ABS
- Emergency Stop Signal বা ESS
- LED হেডল্যাম্প, টেলল্যাম্প ও উইঙ্কার
- টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক
- টুইন হাইড্রলিক রিয়ার শক অ্যাবজর্বার
- Side Stand Engine Inhibitor
- E20 এবং OBD-2B কমপ্লায়েন্ট ইঞ্জিন
Honda H’ness CB350-এর ডিজাইন ও কমফোর্ট
H’ness CB350-এর ডিজাইনে ক্লাসিক রোডস্টার মোটরসাইকেলের ছাপ রয়েছে। গোল LED হেডল্যাম্প, বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ক্রোম ফিনিশ এবং পরিপাটি বডি ডিজাইন বাইকটিকে একটি প্রিমিয়াম রেট্রো লুক দেয়। একই সঙ্গে আধুনিক LED লাইটিং এবং ডিজিটাল তথ্যসমৃদ্ধ মিটার বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে।
বাইকটিতে সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে টুইন হাইড্রলিক শক অ্যাবজর্বার রয়েছে। ডুয়াল-চ্যানেল ABS-এর সঙ্গে ৩১০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ২৪০ মিমি রিয়ার ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। এই সেটআপ দৈনন্দিন রাইডিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাতেও নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Honda H’ness CB350 কেন কিনবেন?
যারা 350cc সেগমেন্টে রেট্রো ডিজাইন, মসৃণ ইঞ্জিন, শক্তিশালী টর্ক এবং আধুনিক ফিচারের সমন্বয় চান, তাদের জন্য Honda H’ness CB350 একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প। HSTC, Assist ও Slipper Clutch, Dual-Channel ABS এবং Honda RoadSync-এর মতো ফিচার বাইকটিকে শুধু ক্লাসিক লুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গেও যুক্ত করেছে।
তবে Honda H’ness CB350 কেনার আগে নিজের শহরের বর্তমান এক্স-শোরুম ও অন-রোড দাম, ভ্যারিয়েন্ট, বিমা, RTO চার্জ এবং ডিলার অফার যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে 350cc সেগমেন্টের অন্যান্য বাইকের দাম, মাইলেজ, পারফরম্যান্স ও ফিচার তুলনা করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়া ভালো।