Royal Enfield Himalayan 450-এর ইঞ্জিন কত সিসি? স্পেসিফিকেশন ও পারফরম্যান্স জানুন
Royal Enfield Himalayan 450-এর ইঞ্জিন কত সিসি?
ভারতীয় টু-হুইলার বাজারে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং মোটরবাইকের জগতে রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৫০ (Royal Enfield Himalayan 450) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। এই বাইকটিতে ৪৫১.৬৫ সিসি (সাধারণ ভাষায় ৪৫২ সিসি) সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ডিওএইচসি (DOHC) ৪-ভালভ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি রয়্যাল এনফিল্ডের তৈরি প্রথম লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শেরপা ৪৫২’ (Sherpa 452)।
আগের পুরোনো হিমালয়ান ৪১১ সিসি মডেলের তুলনায় এই নতুন ৪৫২ সিসির ইঞ্জিনটি প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক বেশি আধুনিক, হালকা এবং শক্তিশালী। এটি রাইডারকে পাহাড়ি উঁচু পথ থেকে শুরু করে হাইওয়েতে উচ্চ গতিতে ক্রুজ করার সেরা অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন ও পারফরম্যান্স ডেটা
হিমালয়ান ৪৫০-এর শেরপা ৪৫২ ইঞ্জিনটি উচ্চ পারফরম্যান্স প্রদানের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ইঞ্জিনটির প্রধান স্পেসিফিকেশনসমূহ নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:
- ইঞ্জিন ক্ষমতা (Displacement): ৪৫১.৬৫ সিসি (৪-ভালভ, DOHC)
- সর্বোচ্চ পাওয়ার (Max Power): ৮,০০০ আরপিএমে ৪০.০২ পিএস
- সর্বোচ্চ টর্ক (Max Torque): ৫,৫০০ আরপিএমে ৪০ এনএম
- বোর x স্ট্রোক: ৮৪ মিমি x ৮১.৫ মিমি
- কম্প্রেশন রেশিও: ১১.৫:১
- গিয়ারবক্স: ৬-স্পিড ম্যানুয়াল উইথ অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ
- ফুয়েল ইনজেকশন: রাইড-বাই-ওয়্যার (Ride-by-Wire) ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকশন
অন-রোড ও অফ-রোড পারফরম্যান্স
শেরপা ৪৫২ ইঞ্জিনটি নিম্ন ও মধ্যম আরপিএম (Low and Mid-range RPM)-এ চমৎকার টর্ক তৈরি করে। ফলে ৩,০০০ আরপিএমের পর থেকেই বাইকটি দ্রুত গতি তুলতে শুরু করে। এর ৬-স্পিড গিয়ারবক্স এবং স্লিপার ক্লাচের কারণে দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন করা বেশ সহজ এবং মসৃণ হয়।
বাইকটির সামগ্রিক ডাইমেনশন ও রাইডিং সক্ষমতা:
- কার্ব ওয়েট: ১৯৬ কেজি
- ফুয়েল ট্যাংক ক্ষমতা: ১৭ লিটার
- গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স: ২৩০ মিমি
- সাসপেনশন ট্রাভেল: সামনে ও পেছনে উভয় ক্ষেত্রেই ২০০ মিমি
- সর্বোচ্চ গতি (Top Speed): প্রায় ১৫০+ কিমি/ঘণ্টা
- মাইলেজ: এআরএআই (ARAI) সার্টিফাইড তথ্য অনুযায়ী প্রতি লিটারে ২৯.১৫ কিলোমিটার
আধুনিক প্রযুক্তি ও সেফটি ফিচার
হিমালয়ান ৪৫০ বাইকে কেবল ইঞ্জিন শক্তিশালী নয়, এতে ব্যবহৃত আধুনিক ইলেকট্রনিক ফিচার রাইডারকে দারুণ সুবিধা দেয়। এতে রয়েছে রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি, যার ফলে ইকো (Eco) এবং পারফরম্যান্স (Performance) এই দুটি প্রধান রাইডিং মোড নির্বাচন করা যায়।
ব্রেকিং ও নিরাপত্তার জন্য সামনে ৩২০ মিমি ও পেছনে ২৭০ মিমি ডিস্ক ব্রেকের সাথে সুইচএবল ডুয়াল চ্যানেল এবিএস (ABS) দেওয়া হয়েছে। অফ-রোডিংয়ের সময় পেছনের চাকার এবিএস নিষ্ক্রিয় করার সুবিধা থাকায় পাথুরে বা কর্দমাক্ত ট্রেইলে ভালো নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। এছাড়া ফুল-স্ক্রিন নেভিগেশন সুবিধা সহ ৪-ইঞ্চির গোলাকার ফুল-কালার টিএফটি (TFT) কনসোল অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।