জেট ইঞ্জিন কীভাবে আবিষ্কার হলো, বিমানের গতিতে বিপ্লব ঘটাল যেভাবে
জেট ইঞ্জিন আবিষ্কারের ইতিহাস ও এভিয়েশন খাতের বিপ্লব
আকাশে দ্রুতগতিতে উড়ে চলা আধুনিক যাত্রীবাহী বিমান কিংবা যুদ্ধবিমানগুলোর গর্ভধারিণী শক্তি হলো জেট ইঞ্জিন। প্রপেলার বা পাখার সাহায্যে চলা আদিযুগের বিমানের গতিসীমা এবং উচ্চতার সীমাবদ্ধতাকে চিরতরে ভেঙে দিয়েছিল এই জেট প্রযুক্তির আবিষ্কার। বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটানো এই ইঞ্জিন একদিনে তৈরি হয়নি, এর পেছনে রয়েছে তরুণ এক ব্রিটিশ প্রকৌশলীর অদম্য জেদ ও দূরদর্শী চিন্তা।
জেট ইঞ্জিন আবিষ্কারের একক কৃতিত্ব মূলত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের পাইলট ও প্রকৌশলী ফ্রাঙ্ক হুইটল (Frank Whittle)-এর। ১৯৩০-এর দশকে তিনি যখন প্রথম প্রপেলারবিহীন গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিনের ধারণা পেশ করেন, তখন অনেকেই এটিকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে হুইটল পিছু হটেনি; তিনি গ্যাস কমপ্রেশন ও রিয়েকশন প্রপালশনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক শক্তির উৎস তৈরির কাজ চালিয়ে যান। অন্যদিকে, জার্মানিতে একই সময়ে হ্যান্স ভন ওহাইমও স্বাধীনভাবে জেট ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১৯৩৭ সালের এপ্রিল মাসে ফ্রাঙ্ক হুইটলের তৈরি পরীক্ষামূলক জেট ইঞ্জিন সফলভাবে চালু হয় এবং ১৯৩৯ সালে প্রথম জেট চালিত বিমান 'হেইনকেল হেই ১৭৮' (Heinkel He 178) আকাশে ওড়ে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে সামরিক গতি বাড়ানোর তাগিদে জেট ইঞ্জিনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৯৫০-এর দশকে বোয়িং ৭০৭ চালুর মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে জেট যুগের সূচনা হয়, যা বিশ্ব ভ্রমণকে করে তোলে দ্রুত ও সহজ।
- আধুনিক টার্বোফ্যান জেট ইঞ্জিনগুলো অত্যন্ত কম জ্বালানি পুড়িয়ে সুপারসনিক গতিতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
আধুনিক যুগে জেট ইঞ্জিনের রূপান্তর
ফ্রাঙ্ক হুইটলের সেই আদি পরীক্ষামূলক টারবাইন থেকে শুরু করে আজকের অত্যন্ত শক্তিশালী ও শব্দহীন ফ্যান-জেট ইঞ্জিন—প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিমানের গতি, নিরাপত্তা এবং ধারণক্ষমতা কল্পনার বাইরে চলে গেছে। গ্লোবাল ভিলেজের এই যুগে দূর-দূরান্তের দেশে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জেট ইঞ্জিন মানব সভ্যতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে, জেট ইঞ্জিনের আবিষ্কার মানুষের আকাশ জয়কে সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। ফ্রাঙ্ক হুইটলের সেই অসামান্য উদ্ভাবন গোটা পৃথিবীকে আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে, যা মানব সভ্যতার প্রযুক্তিগত সাফল্যের মুকুটে এক উজ্জ্বল রত্ন হিসেবে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবে।