পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও কি একসময় ছিল বিশাল সমুদ্র? নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য।
পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও কি একসময় ছিল বিশাল সমুদ্র? নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য।
একসময় যে লাল গ্রহকে আজকের মতো সম্পূর্ণ শুষ্ক, নির্জন ও ধূলিময় মরুভূমি বলে মনে করা হতো, সাম্প্রতিক কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আধুনিক মার্স অরবিটার এবং রোভারগুলোর পাঠানো উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি ও ভূতাত্ত্বিক ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের বিশাল অংশজুড়ে ঢেউেলানো এক বিশাল সমুদ্র বা আদিম জলরাশি ছিল। পৃথিবীর মতোই প্রাচীন মঙ্গলের আবহাওয়া ও পরিবেশ একসময় জলবায়ুর দিক থেকে বেশ অনুকূল ছিল এবং সেখানে তরল জলের বিশাল উপস্থিতি গ্রহটির সমগ্র ভূ-প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করত।
মঙ্গলের বুকে প্রাচীন এই মহাসাগরের অস্তিত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা কী বলছে এবং এর পেছনে কী ধরনের জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের নিচু সমভূমি অঞ্চলে প্রাচীন উপকূলরেখার (Shorelines) সুনির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এবং জলের স্রোতে ভেসে আসা পলির স্তর খুঁজে পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সেখানে অতীতে বিশাল আকারের একটি বা একাধিক সমুদ্রের অস্তিত্ব ছিল।
- প্রাচীন উপকূলরেখা ও অববাহিকা: মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের ‘ভ্যাসিতাস বোরিয়ালিস’ (Vastitas Borealis) নামক সমতল ভূমিতে বিশাল জলরাশির কারণে তৈরি হওয়া প্রাচীন সৈকত ও উপকূলীয় ঢালের জোরালো প্রমাণ মিলেছে।
- বন্যা ও নদীর অবশেষ: মঙ্গলের রুক্ষ উপরিভাগে বিশাল আকৃতির প্রাচীন নদীখাত ও হ্রদের অববাহিকা দেখে বোঝা যায় যে প্রবল জলপ্রবাহের মাধ্যমে জল এসে কোনো বৃহৎ জলাধার বা সাগরে জমা হতো।
- জলবায়ু পরিবর্তনের রহস্য: একসময়ে মঙ্গলে এত বিশাল সমুদ্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে গ্রহটি তার বায়ুমণ্ডল ও জল হারিয়ে আজকের এই চরম শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হলো, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন করে গবেষণা শুরু করেছেন।
- প্রাচীন প্রাণের সম্ভাবনা: মঙ্গলের বুকে যদি সত্যিই বিশাল সমুদ্র বা জলের অস্তিত্ব থাকে, তবে সেখানে পৃথিবীর শুরুর দিকের মতো আদিম অণুজীব বা প্রাণের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।
জলকণা ও প্রাণের খোঁজে মহাকাশ বিজ্ঞান
মঙ্গলের বুকে প্রাচীন সমুদ্রের এই রোমাঞ্চকর আবিষ্কার আমাদের সৌরজগতের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। গ্রহের বুকে লুকিয়ে থাকা জলের এই অমূল্য সূত্রগুলো একদিন হয়তো আমাদের বুঝিয়ে দেবে কীভাবে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল বা হতে পারত। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় অগ্রগতি মানবজাতিকে তার শেকড় ও মহাবিশ্বের সত্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে চলেছে।