উত্তর ২৪ পরগণার হাড়োয়ায় বরফ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক, অসুস্থ ২৫ গ্রামবাসী
হাড়োয়ায় বরফ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক
উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ায় একটি বরফ কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাড়োয়া থানার অন্তর্গত শাপুকুর সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। কারখানা থেকে হঠাৎ তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। গ্যাসের প্রভাবে চোখ জ্বালা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় পড়েন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর শিশু ও মহিলা-সহ মোট ২৫ জন গ্রামবাসী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দ্রুত হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। গ্যাসের তীব্র গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।
গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ স্থানীয়রা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরফ কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরিয়ে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের এলাকায় তার ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাসের সংস্পর্শে এসে কয়েকজনের চোখে জ্বালা শুরু হয়। পাশাপাশি শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় আক্রান্তদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশু ও মহিলারাও অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ঘটনাটি হাড়োয়া থানার শাপুকুর সংলগ্ন একটি বরফ কারখানায় ঘটেছে। কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে অসুস্থতার ঘটনা ঘটে। মোট ২৫ জনকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর।
- ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগণার হাড়োয়া থানার শাপুকুর সংলগ্ন এলাকা।
- একটি বরফ কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়।
- গ্যাসের প্রভাবে চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়।
- শিশু ও মহিলা-সহ ২৫ জন গ্রামবাসী অসুস্থ হন।
- আক্রান্তদের হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- ঘটনার পর কারখানার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ
গ্যাস লিকের ঘটনার পর কারখানার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানার কারণে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা বেড়াচাঁপা-হাড়োয়া রোড অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ জানান। এর ফলে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে থাকা কারখানা থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দাদের একাংশ। সেই কারণেই কারখানার কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত
গ্যাস লিকের সঠিক কারণ কী, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারখানার কোনও যন্ত্রাংশে ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা অথবা অন্য কোনও কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরিয়ে এসেছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে কারখানায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
হাড়োয়ার এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গ্যাস লিকের কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের জেরে ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।