দুর্গাপুজোর বিসর্জনে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ রাজ্যের

দুর্গাপুজোর বিসর্জনে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ রাজ্যের

দুর্গাপুজোর বিসর্জনে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের

আসন্ন দুর্গাপুজোর আনন্দ যাতে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়, তার জন্য আগাম কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে (DJ) বা উচ্চস্বরে বক্স বাজানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসর্জনের সময় শব্দদূষণ রোধ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পুজো কমিটি বা ক্লাব এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি বছরই বিজয়া দশমীর বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত শব্দ এবং বেপরোয়া ডিজে ব্যবহারের জেরে সাধারণ মানুষ ও প্রবীণ নাগরিকদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় উচ্চ শব্দের জেরে অসুস্থ ব্যক্তি ও পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়। আদালতের নির্দেশিকা এবং পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে বলবৎ করতেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। শোভাযাত্রার সময় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং ঢাক-ঢোল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিসর্জনের রুটগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং শব্দমাত্রা মাপার জন্য বিশেষ মনিটরিং দল কাজ করবে। নির্ধারিত ডেসিবেল সীমা লঙ্ঘন করলে বা বেআইনিভাবে বক্স বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করলে সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

  • দুর্গাপুজোর বিসর্জনে ডিজে বা উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো নিষিদ্ধ
  • শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি
  • আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
  • ঐতিহ্যবাহী ঢাক ও বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে শোভাযাত্রা করার নির্দেশ

নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার ওপর জোর

প্রশাসনের এই পদকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজ। উৎসবের আনন্দে যাতে কারও কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে ইতিমধ্যেই এই নিয়মগুলি ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পুজো সমাপ্ত করতে সমস্ত ক্লাব ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে রাজ্য প্রশাসন। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলো, লাইফগার্ড এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।