ফারাক্কায় রেল পরিষেবা স্বাভাবিক: ট্র্যাক বসে যাওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মেরামতে সচল উত্তরবঙ্গ যোগাযোগ

ফারাক্কায় রেল পরিষেবা স্বাভাবিক: ট্র্যাক বসে যাওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মেরামতে সচল উত্তরবঙ্গ যোগাযোগ

ফারাক্কায় রেল পরিষেবা স্বাভাবিক: কাটল উত্তরবঙ্গ যোগাযোগের দুশ্চিন্তা

রেল ট্র্যাক বসে যাওয়ার জেরে দীর্ঘ প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বিঘ্নিত থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক হল ফারাক্কার রেল যোগাযোগ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল ফের শুরু হয়েছে। এর ফলে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ যাত্রীদের মনে, যারা গত দুদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও যাতায়াতের সমস্যায় ভুগেছিলেন। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরেই ট্রেনগুলিকে ওই রুটে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ফারাক্কা সংলগ্ন এলাকায় রেল ট্র্যাকের নিচের মাটি বসে যাওয়ার কারণে মারাত্মক বিপত্তি ঘটে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তক্ষুণ ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রেল রুটটি সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই ঘটনায় বহু দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে, যার জেরে যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ট্র্যাক মেরামতের এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করতে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে একাধিক প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের টিম দিনরাত কাজ করে। ট্র্যাকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করার পাশাপাশি মাটি ধসে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করায় দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

  • উত্তরবঙ্গগামী সমস্ত প্রধান এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলি এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল শুরু করেছে।
  • যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন স্টেশনে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়েছিল এবং সাহায্য ডেস্ক খোলা রাখা হয়েছিল।
  • ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ওই অংশের রেল ট্র্যাকের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

স্বস্তিতে যাত্রীরা ও রেল প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ

পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাওড়া ও শিয়ালদহসহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সবকটি রুটে নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে রেলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল হওয়ায় এখন আর নতুন করে কোনো ট্রেন বাতাসের মুখে পড়ার আশঙ্কা নেই। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনেও এই রুটের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।