বঙ্গের পর্যটনে বড় বিনিয়োগ: পরিকাঠামো উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা রাজ্য সরকারের
বঙ্গের পর্যটনে বড় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মেগা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য পর্যটনের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি উন্মোচন করার সময় এই বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়। মূলত দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে নতুন রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীমাতৃক বাংলার জলপথ পর্যটনকে চাঙ্গা করতে গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে একাধিক বড় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কলকাতার পাশাপাশি সুন্দরবন ও গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে নতুন ভেসেল ও ক্রুজ পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করে তুলতে কলকাতা শহরে ওয়াটার মেট্রো চালুর প্রকল্পেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও পর্যটক উভয়ের জন্যই অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পর্যটকদের আবাসন সমস্যা দূর করতে রাজ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন পর্যটন নিগমের গেস্ট হাউস ও লজগুলির আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ি ও জঙ্গল অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং দপ্তরের ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে।
- রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাজেট থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
- নদীপথে পর্যটন বাড়াতে নতুন ভেসেল ও ওয়াটার মেট্রো চালুর প্রস্তুতি চলছে।
- দার্জিলিং, সুন্দরবন ও বক্সা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিষেবা উন্নত করার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও আগামী দিনের রূপরেখা
শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার্থে এবং জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের ইকোট্যুরিজম বাড়াতে একাধিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পর্যটন খাতের এই সামগ্রিক উন্নতির ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন লোগো উন্মোচন এবং এই আর্থিক বরাদ্দের হাত ধরে বাংলার পর্যটন শিল্প আগামী দিনে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহਲ।