শশী পাঁজা কি তৃণমূল ছাড়ছেন? এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে সাক্ষাতে জোর জল্পনা

শশী পাঁজা কি তৃণমূল ছাড়ছেন? এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে সাক্ষাতে জোর জল্পনা

শশী পাঁজা ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে একাধিক নেতা-মন্ত্রী অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ায় নতুন করে দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজাকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনা ছড়িয়েছে।

শনিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান শশী পাঁজা। ক্লিনিকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বর্তমানে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের অন্যতম। এই সাংসদরা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক হিসেবেও রয়েছেন। সম্প্রতি এনডিএ-র একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কাকলিকে একই সারিতে বসতে দেখা গিয়েছিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাকলি ও শশীর এই সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুই নেত্রীর মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। যদিও ক্লিনিকে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে শশী পাঁজা জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণেই সেখানে গিয়েছিলেন। তবে এই ব্যাখ্যা জল্পনা পুরোপুরি থামাতে পারেনি।

শশী পাঁজা এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি পেশাগত মিলও রয়েছে। দু'জনেই চিকিৎসক হলেও বর্তমানে কেউই চিকিৎসা পেশায় সক্রিয় নন। ফলে তাঁদের সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত—দুই ধরনের ব্যাখ্যাই সামনে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • শনিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা।
  • প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই নেত্রীর মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক হয়।
  • ক্লিনিকে যাওয়ার কারণ হিসেবে শশী পাঁজা ব্যক্তিগত সফরের কথা উল্লেখ করেছেন।
  • কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের অন্যতম।
  • শশী পাঁজা এখনও দলবদল নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরেও বাড়ল জল্পনা

রবিবার সকালে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে দাবি করা হয়, শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে পারেন। যদিও কিছু সময় পর সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়। তবে পোস্টটি মুছে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

এই বিষয়ে শশী পাঁজার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোনের উত্তরও মেলেনি এবং পাঠানো বার্তারও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন শশী পাঁজা। নির্বাচনের পর তাঁকে প্রকাশ্যে খুব বেশি দেখা না গেলেও তাঁর কন্যা তথা কলকাতা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পূজা পাঁজা ২১ জুলাই কালীঘাটে তৃণমূলের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। সেই কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, শশী পাঁজা এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও দলবদল সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করা হয়নি।