বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যেতেই আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের রূপরেখা তৈরি করল কানাডা
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যেতেই কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা কানাডার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক (Retaliatory Tariffs) আরোপের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করেছে কানাডা সরকার। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শীর্ষপর্যায়ের আলোচনা থেকে কোনো সমঝোতা না আসায় মার্কিন প্রশাসন প্রায় ২০০ কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক চাপায়। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা করেছেন যে, তারা মার্কিন পদক্ষেপের সমপরিমাণ আর্থিক মূল্যের ("Dollar for Dollar") পাল্টা শুল্ক আরোপ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন যে, আলোচনার একদম শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এমন কিছু একতরফা এবং অন্যায্য শর্ত দেওয়া হয়েছিল, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ফলে কানাডা আলোচনা স্থগিত রাখার এবং মার্কিন পণ্যসামগ্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি শুল্ক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কানাডার পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত নির্দেশিকার মূল দিকগুলি:
- মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে 'ডলার ফর ডলার' বা সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক নীতি গ্রহণ।
- আমেরিকান ইস্পাত (Steel), ডেইরি বা দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্সকে নিশানা করার পরিকল্পনা।
- কৃষি সরঞ্জাম, কাগজ ও মণ্ড (Pulp and Paper) সহ একাধিক মার্কিন রপ্তানি সামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর কার্যকরের প্রস্তাব।
- শুল্ক যুদ্ধের কারণে ঘরোয়া শিল্প ও শ্রমিকদের ক্ষতি সামলাতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা।
উত্তপ্ত কূটনৈতিক অবস্থান ও বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা
কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই মার্কিন পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। স্টিল, দুগ্ধজাত দ্রব্য ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বেশ কিছু মূল চালিকা খাতের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিশ্ববাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর আমেরিকার দুই সুদৃঢ় মিত্র দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য সঙ্ঘাতের ফলে উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (USMCA)-র ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং ওয়াশিংটন প্রশাসন এই ব্যর্থতার দায় কানাডার ওপর চাপালেও প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো অসমান চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। দুই দেশের মধ্যে এই শুল্ক যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উভয় দেশের ভোক্তা বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।