বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে বড় প্রস্তাব রাষ্ট্রপুঞ্জে, উন্নত দেশগুলির ওপর কার্বন ট্যাক্স বাড়ানোর জোরালো সওয়াল

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে বড় প্রস্তাব রাষ্ট্রপুঞ্জে, উন্নত দেশগুলির ওপর কার্বন ট্যাক্স বাড়ানোর জোরালো সওয়াল

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ, রাষ্ট্রপুঞ্জে উন্নত দেশগুলির ওপর কার্বন ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব

লাগাতার বাড়তে থাকা বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ুর চরম বিপর্যয় রোধ করতে বিশ্বমঞ্চে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর প্রস্তাব পেশ করল রাষ্ট্রপুঞ্জ সংশ্লিষ্ট পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। শিল্পোন্নত দেশগুলি থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে ওই সমস্ত উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির ওপর কার্বন ট্যাক্স (Carbon Tax) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর জোরালো প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের লড়াইয়ে বড় ধরনের আর্থিক এবং পরিকাঠামোগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ধনী দেশগুলির শিল্পায়ন ও মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকেই দায়ী করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলি দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু বিচারের দাবি তুলে আসছিল। নতুন এই প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত উন্নত দেশ পরিবেশ রক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করছে না বা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো উচিত। সংগৃহীত এই অর্থ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে সবুজ শক্তি পরিকাঠামো গড়ে তুলতে এবং পুনর্বাসনে ব্যবহার করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি শ্লথ করতে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে উন্নত দেশগুলির ওপর কার্বন ট্যাক্স বাড়ানোর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জে।

  • উন্নত দেশগুলির মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণে রাশ টানতে এই কঠোর আর্থিক নীতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • কার্বন ট্যাক্স থেকে সংগৃহীত তহবিল জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলির সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
  • পরিবেশ দূষণকারী শিল্প ও কর্পোরেট সংস্থাগুলির ওপর অতিরিক্ত করের চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে।
  • প্যারিস চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত পূরণে এই প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই নতুন প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলি এই ধরনের কঠোর কর নীতির ফলে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা একে বর্তমান সময়ের অবশ্যম্ভাবী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আগামী দিনে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে এই প্রস্তাব কতটা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।