জলবায়ু পরিবর্তনে বড় সতর্কতা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট

জলবায়ু পরিবর্তনে বড় সতর্কতা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট

জলবায়ু পরিবর্তনে চরম সতর্কতা: আগামী কয়েক বছরেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সীমা ছাড়ানোর আশঙ্কা

পৃথিবীর ভবিষ্যৎ উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দিল রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) নতুন জলবায়ু রিপোর্ট। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আন্তর্জাতিক স্তরে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল, তা খুব শীঘ্রই লঙ্ঘিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এই সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, মানবজাতির নিষ্ক্রিয়তা এবং লাগাতার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে সেই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পৃথিবী। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা এই নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে বিশ্বজুড়ে বরফ গলা, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, তীব্র দাবদাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টির মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নির্গমন দ্রুত হ্রাসের ক্ষেত্রে বিশ্বনেতারা অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

  • রাষ্ট্রপুঞ্জের এই নতুন রিপোর্টে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ছাঁটাই করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
  • তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর একাধিক দ্বীপ রাষ্ট্র এবং উপকূলীয় অঞ্চল ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।
  • পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সমস্ত দেশকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির প্রতিক্রিয়া ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই কড়া সতর্কবার্তার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলির ওপর পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নীতি পরিবর্তনের প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। শিল্পোন্নত দেশগুলি থেকে কার্বন নির্গমন কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের গতি এখনও অত্যন্ত মন্থর বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

পৃথিবীকে বড় ধরনের জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে আগামী দশকটিই মানবজাতির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষা্র সময় হতে চলেছে।